হাইকোর্ট সংলগ্ন জাতীয় ঈদগাহ মাঠের কাছে ড্রামের ভেতর থেকে ব্যবসায়ী আশরাফুল হকের ২৬ টুকরো লাশ উদ্ধারের ঘটনায় নতুন তথ্য উদ্ঘাটন করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। ডিবির দাবি, আশরাফুলকে হত্যার পর তার লাশ একই বাসায় রেখে অন্তত ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় কীভাবে লাশ সরানো হবে—সে পরিকল্পনা করে জারেজুল ইসলাম ও শামীমা। শেষ পর্যন্ত দুজনে সিদ্ধান্ত নেন, লাশ টুকরো করে ড্রামে ভরে এমনভাবে ফেলে আসবেন যাতে কেউ সন্দেহ না করে। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী দা দিয়ে লাশ ২৬ টুকরো করা হয় এবং পরে ড্রামের মধ্যে ভরে হাইকোর্টের সামনে ফেলে দেওয়া হয়।
সমকালকে ডিবির একটি সূত্র জানায়, গ্রেপ্তার হওয়ার পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জারেজুল এসব তথ্য স্বীকার করেছেন।
আজ শুক্রবার কুমিল্লার দাউদকান্দি থেকে জারেজুলকে গ্রেপ্তার করে ডিবি। ডিবির যুগ্ম কমিশনার (দক্ষিণ) মোহাম্মদ নাসিরুল ইসলাম বলেন, ‘পরকীয়া সম্পর্কের জেরেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। জারেজুলকে ডিবি কার্যালয়ে আনা হয়েছে।’
এদিকে র্যাব–৩ জানায়, আশরাফুল হত্যা মামলায় জারেজুলের প্রেমিকা শামীমাও বিভিন্ন আলামতসহ গ্রেপ্তার হয়েছেন।
এর আগে বৃহস্পতিবার হাইকোর্টের সামনে ড্রামের ভেতর থেকে আশরাফুলের টুকরো লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
তদন্তে জানা যায়, নিহত আশরাফুল ও মালয়েশিয়া প্রবাসী জারেজুল বাল্যবন্ধু; দুজনের বাড়ি রংপুরে। প্রায় তিন বছর আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কুমিল্লায় থাকা এক প্রবাসীর স্ত্রী শামীমার সঙ্গে পরিচয় হয় জারেজুলের। একসময় তাদের মধ্যে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক গড়ে ওঠে। মালয়েশিয়া থেকে দেশে এলেই শামীমার সঙ্গে দেখা করতেন তিনি। এই সম্পর্কের কথা জারেজুল তার বন্ধু আশরাফুলকে জানান। পরে আশরাফুল শামীমার নম্বর সংগ্রহ করে তাকেও যোগাযোগ করেন এবং তাদের মধ্যেও সম্পর্ক তৈরি হয়।
ডিবির এক কর্মকর্তা জানান, ২৩ অক্টোবর মালয়েশিয়া থেকে দেশে ফেরার পর রাজধানীর দক্ষিণ দনিয়ায় একটি বাসা ভাড়া নেন জারেজুল এবং সেখানে শামীমাকে নিয়ে ওঠেন। সেই বাসায়ই আসেন আশরাফুল। সেখানে এসে জারেজুল জানতে পারেন, আশরাফুলও শামীমার সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছেন। এ নিয়ে দুই বন্ধুর মধ্যে তীব্র বিরোধ তৈরি হয়। মঙ্গলবার রাত থেকে বুধবার সকাল—এই সময়ের মধ্যে ওই বাসায় আশরাফুলকে হত্যা করা হয়।
হত্যার পর পুরো বুধবার ও বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত লাশ ঘরেই ছিল। এ সময় বাইরে থেকে খাবার কিনে এনে দুজনে খেতেন।
পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার সকালে বাথরুমে নিয়ে লাশ ২৬ টুকরো করেন জারেজুল ও শামীমা। এরপর দুটি ড্রামের মধ্যে লাশ রেখে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ঘোরাঘুরি করেন তারা। একপর্যায়ে হাইকোর্টের সামনে ড্রামগুলো ফেলে পালিয়ে যান।


