শুক্রবার, জানুয়ারি ১৬, ২০২৬

গাজীপুরে বাসায় স্ত্রীকে গলা কেটে হত্যা, গুরুতর আহত স্বামী

শেয়ার করুন

গাজীপুর মহানগরীর একটি বাসা থেকে গলাকাটা অবস্থায় রহিমা বেগম (৩৮) নামের এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। একই বাসা থেকে তাঁর স্বামী ইমরান হোসেনকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

শুক্রবার মধ্যরাতে মহানগরীর কোনাবাড়ী নওয়াব আলী মার্কেট এলাকার পাঁচতলা একটি ভবনের ফ্ল্যাটে এ ঘটনাটি ঘটে। শনিবার সকালে ওই দম্পতির ১৬ বছর বয়সী মেয়েকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।

নিহত রহিমা বেগম সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার বিনোয়াটি গ্রামের শাজাহান সরকারের মেয়ে। তাঁর স্বামী ইমরান হোসেন ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার আমতৈল গ্রামের সুরুজ আলীর ছেলে। তাঁরা মেয়েকে নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কোনাবাড়ীতে ভাড়া থাকতেন। ইমরান স্থানীয়ভাবে মাংস বিক্রির কাজ করতেন, আর রহিমা করতেন গৃহস্থালি কাজ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ভোরে খবর পেয়ে কোনাবাড়ী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রথমে রহিমার গলাকাটা মরদেহ দেখতে পান। কিছুক্ষণ পর তাঁরা দেখতে পান ইমরান হোসেন এখনও জীবিত এবং অর্ধগলাকাটা অবস্থায় হাত নাড়ছেন। পরে তাঁকে উদ্ধার করে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

ইমরানের চাচা আব্দুল কাদের বলেন, “ইমরান কেন তাঁর স্ত্রীকে হত্যা করবে– তা বুঝতে পারছি না। পুলিশ তাঁকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করেছে।”

ঘটনা সম্পর্কে কোনাবাড়ী থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বলেন, “দম্পতির মেয়ের দাবি— প্রথমে তাঁর বাবা মাকে হত্যা করেন, এরপর নিজেই নিজের গলা কাটেন। তবে মেয়ের বক্তব্য আমাদের কাছে সন্দেহজনক মনে হয়েছে, তাই তাকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।”

তিনি আরও জানান, নিহত রহিমা বেগমের মরদেহ মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং ইমরান হোসেন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ঘটনাটি তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

সাম্প্রতিক খবর

এই বিভাগের আরও খবর