ঢাকা: জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত সারাদেশে ৫৮৬টি মামলা দায়ের হয়েছে। এর মধ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তদন্তাধীন আরও চারটি মামলা রয়েছে। এই মামলাগুলোতে শেখ হাসিনাকে হত্যাকাণ্ড, অপহরণ ও সহিংসতার ঘটনা পরিচালনার প্রধান আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
৫৮৬টি মামলার মধ্যে ৩২৪টি হত্যা মামলা। এছাড়া দুদকের মামলা রয়েছে ছয়টি। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থায় জমা পড়েছে আরও অর্ধশত অভিযোগ। এদের মধ্যে রয়েছে পিরোজপুরের সুখরঞ্জন বালি, মাইকেল চাকমা, বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমেদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের করা অভিযোগ। যাচাই-বাছাই শেষে সত্যতা মিললে এগুলোও মামলায় রূপান্তরিত হবে।
শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে প্রথম মামলা দায়ের করা হয় গত বছরের ১৩ আগস্ট। পুলিশ সদরদপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত বছর জুলাই-আগস্ট আন্দোলন-পরবর্তী সারাদেশে ১,৬১২টি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় হত্যার অভিযোগ রয়েছে ৫৯৯টি, এবং অন্যান্য ধরনের মামলা হয়েছে ১,০০৩টি। ঢাকাসহ সারাদেশের থানা ও আদালতে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দায়ের করা হত্যা মামলা রয়েছে ৩২৪টি। এছাড়া আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের একটি মামলায় আদালত অবমাননার দায়ে গত ২ জুলাই শেখ হাসিনাকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর মো. মিজানুল ইসলাম জানিয়েছেন, “স্বচ্ছ ও স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় বিচার অনুষ্ঠিত হচ্ছে। দেশে যে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি করার চেষ্টা করা হচ্ছে, তা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দৃঢ়তার সঙ্গে রুখে দেবে।”
অন্যদিকে, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জেড আই খান পান্না মন্তব্য করেছেন, রাজনৈতিক পরিস্থিতি পরিবর্তিত হলে রায়ের কার্যকারিতা প্রভাবিত হতে পারে। যেমন অতীতে ড. মুহাম্মদ ইউনূস প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে ক্ষমতায় আসার সঙ্গে সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে থাকা সব মামলা বাতিল হয়ে গিয়েছিল।


