জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। সোমবার রায় ঘোষণার পর এক বিবৃতি প্রকাশ করে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল তাঁর ভেরিফায়েড এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে বিবৃতিটি শেয়ার করেন।
বিবৃতিতে বলা হয়, “বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ঘোষিত রায় সম্পর্কে ভারত অবগত। ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী হিসেবে বাংলাদেশের জনকল্যাণ, শান্তি, অন্তর্ভুক্তিমূলক গণতন্ত্র ও স্থিতিশীলতার প্রতি ভারত প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এই লক্ষ্যে আমরা সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে গঠনমূলকভাবে কাজ করে যাব।”
এদিন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, বন্দিবিনিময় চুক্তির আওতায় পলাতক আসামি শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খানকে অবিলম্বে ফেরত দেওয়ার জন্য ভারতকে আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে ভারতের বিবৃতিতে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করা হয়নি।
এদিকে ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি সোমবার প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে লিখেছে, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দেওয়া রায় ভারতের জন্য জটিল কূটনৈতিক পরিস্থিতি তৈরি করেছে। ‘হোয়াই দিস ভার্ডিক্ট পুটস ইন্ডিয়া ইন আ ট্রিকি সিচুয়েশন’ শিরোনামের সেই প্রতিবেদনে গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স প্রতিবেদক অন্বরাসন এথিরাজন উল্লেখ করেন—আগেও ঢাকা শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ চাইলে ভারত আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। দুই দেশের মধ্যে প্রত্যর্পণ চুক্তি থাকলেও অভিযোগগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হিসেবে বিবেচিত হলে ভারত তা প্রত্যাখ্যান করার পূর্ণ আইনি অধিকার রাখে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে শেখ হাসিনা ভারতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ কূটনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তুলেছিলেন। ফলে তাঁকে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে দিল্লির রাজনৈতিক অঙ্গনে অনীহা রয়েছে। এক্ষেত্রে ভারত যদি প্রত্যর্পণ অনুরোধ নাকচ করে, তাহলে তা বাংলাদেশের কাছে নেতিবাচক কূটনৈতিক সংকেত হিসেবে দেখা হতে পারে। আবার অনুরোধ মেনে নিলে দীর্ঘদিনের এক ঘনিষ্ঠ মিত্রের প্রতি দূরত্ব সৃষ্টি হতে পারে। এই বাস্তবতায় ভারতকে খুব সংবেদনশীল ও ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান বজায় রাখতে হচ্ছে।


