চোরাচালানের মাধ্যমে স্বর্ণ ও হীরা সংগ্রহ করে অবৈধ উপায়ে অর্জিত ৬৭৮ কোটি টাকার মানিলন্ডারিংয়ের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের মালিক দিলীপ কুমার আগরওয়ালার বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ–সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট। সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (গণমাধ্যম) জসীম উদ্দিন খান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত বছরের ২৯ সেপ্টেম্বর ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড লিমিটেডের আর্থিক লেনদেন, নথিপত্র ও ব্যাংক হিসাব পর্যালোচনা ও অনুসন্ধান শুরু করে সিআইডি। দীর্ঘ অনুসন্ধানে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটি স্থানীয় বাজার থেকে চোরাচালানের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ ও হীরা সংগ্রহ করে অবৈধভাবে অর্থ উপার্জন করেছে। এসব অপরাধলব্ধ অর্থ পাচারের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া যাওয়ায় সোমবার গুলশান থানায় দিলীপ কুমার আগরওয়ালার বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় অভিযোগের পরিমাণ ৬৭৮ কোটি ১৯ লাখ ১৪ হাজার ১৪ টাকা।
সিআইডি জানায়, ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড ও ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড লিমিটেডের স্বত্বাধিকারী হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে দেশে ও বিদেশে স্বর্ণ ও হীরা ব্যবসার আড়ালে অর্থপাচার ও চোরাচালান কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিলেন দিলীপ আগরওয়ালা। তদন্তে দেখা যায়, ২০০৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৪ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এলসির মাধ্যমে বিদেশ থেকে মাত্র ৩৮ কোটি ৪৭ লাখ টাকার স্বর্ণবার, অলংকার, লুজ ডায়মন্ডসহ বিভিন্ন পণ্য বৈধভাবে আমদানি করে প্রতিষ্ঠানটি। কিন্তু একই সময়ে স্থানীয় বাজার থেকে ক্রয়, বিনিময় বা পরিবর্তন পদ্ধতিতে সংগ্রহ করা স্বর্ণ ও হীরার পরিমাণ দাঁড়ায় ৬৭৮ কোটি ১৯ লাখ টাকায়।
এ বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ ও হীরার উৎস বা সরবরাহকারীর বৈধ কাগজপত্র সিআইডিকে দেখাতে ব্যর্থ হয় ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড। বৈধ নথি না থাকায় এগুলো অবৈধ চোরাচালানের মাধ্যমেই দেশে আনা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয় সংস্থাটি।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, চোরাচালানের মাধ্যমে অর্জিত সম্পদ ও অপরাধলব্ধ অর্থ রূপান্তর, হস্তান্তর ও ব্যবহারের তথ্য-প্রমাণ যাচাই করে মানিলন্ডারিংয়ের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট অনুসন্ধান প্রতিবেদন সিআইডির অতিরিক্ত মহাপরিদর্শকের কাছে দাখিল করা হয়। পরে ১৬ নভেম্বর মামলার অনুমোদন দেওয়া হয়।
গুলশান থানায় দায়ের হওয়া মামলাটি সিআইডির তফসিলভুক্ত হওয়ায় তদন্তের দায়িত্বও পাবে সংস্থাটি। তারা প্রয়োজনীয় নথি, ব্যাংক হিসাব, আর্থিক লেনদেন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের তথ্য যাচাই করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।


