রবিবার, নভেম্বর ৩০, ২০২৫

২২ বছর পর ভারতের বিপক্ষে ঐতিহাসিক জয়: স্বপ্নপূরণের রাতে উচ্ছ্বসিত হামজা–ক্যাবরেরা

শেয়ার করুন

এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বে ভারতকে হারিয়ে বাংলাদেশের ফুটবলে দেখা গেল বহু প্রতীক্ষিত এক মুহূর্ত। সাধারণত ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে একাই হাজির হন কোচ হ্যাভিয়ের ক্যাবরেরা। কিন্তু গতকাল মঙ্গলবার ছিল অন্য রকম দৃশ্য। জয় নিশ্চিত হওয়ার পর তাঁর সঙ্গে সংবাদ সম্মেলন কক্ষে প্রবেশ করেন ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার হামজা চৌধুরী। রুমে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গে সাংবাদিকসহ উপস্থিত সবাই দাঁড়িয়ে তাঁকে অভিনন্দন জানান—বাংলাদেশ ফুটবলে এমন দৃশ্য বহু বছর দেখা যায়নি।

২২ বছর পর ভারতের বিপক্ষে জয়—ম্যাচ শেষে ক্যাবরেরা যেমন কৃতিত্ব দিলেন তাঁর শিষ্যদের, হামজাও জানালেন নিজের স্বপ্ন পূরণের কথা। তিনি বলেন,
‘অবশ্যই স্বপ্ন পূরণ। মানুষের একাধিক স্বপ্ন থাকে, এটি তার একটি। ইনশাআল্লাহ, আমরা খুব শিগগিরই বড় কোনো টুর্নামেন্টেও কোয়ালিফাই করব। আজ আমরা প্রমাণ করেছি যে আমরা সক্ষম। শুধু সময় আর ধৈর্য দরকার।’

হামজা আরও বলেন, দলের অনেক খেলোয়াড়ই কম অভিজ্ঞ। গ্যালারিপূর্ণ স্টেডিয়ামে খেলার চাপ সামলে জায়ান-মিতুলরা দারুণ খেলেছে। বিশেষ করে গোলরক্ষক মিতুল শেষ মুহূর্তে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ করেন। তাঁর ভাষায়,
‘আজ আমরা ১৮ কোটি মানুষকে খুশি করেছি। পৃথিবীর আর কোথাও এমনটা সম্ভব নয়। তাই এটি আমার ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা সাফল্য হয়ে থাকবে।’

গত মার্চে শিলংয়ে বাংলাদেশ দলে অভিষেক হয় হামজার। অভিষেক ম্যাচে জেতা না গেলেও পরের ম্যাচগুলোতে ভালো খেলেও সিঙ্গাপুর ও হংকংয়ের কাছে হারের কষ্ট ছিল তাঁর মনে। এশিয়ান কাপে খেলতে না পারার আক্ষেপও রয়েছে। তবে ভারতের বিপক্ষে এই জয়কে তিনি দেখছেন এক ধরনের ফাইনাল হিসেবে।
‘২২ বছর মানুষ অপেক্ষা করেছে বড় ম্যাচ জয়ের জন্য। আজ সেটা হলো। পারফরম্যান্স হয়তো শতভাগ হয়নি, কিন্তু ফল এসেছে। মার্চে আবার নতুনভাবে প্রস্তুত হব, ইনশাআল্লাহ,’ বলেন হামজা।

দলের পরিশ্রমের বিষয়টি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন লেস্টার সিটির এই তারকা।
‘আমি ক্যাম্পে একেবারে শেষে যোগ দিয়েছি। কোচ-স্টাফরা ২৩ দিন ধরে এখানে আছে। সবাই ৫০০ ঘণ্টার বেশি সময় একসঙ্গে কাটিয়েছে—পরিবার থেকে দূরে, দেশের জন্য কঠোর পরিশ্রম করে গেছে। আলহামদুলিল্লাহ, আজ তার ফল মিলেছে।’

শেষ কয়েক ম্যাচে দল ভালো খেলেও জয়ের দেখা না মিললেও ভারতের বিপক্ষে খেলোয়াড়রা দেখিয়েছে মানসিক দৃঢ়তা।
‘শেষ চার ম্যাচ খুব কঠিন ছিল। আমরা ড্রেসিংরুমে বলেছিলাম—আজ যেন একসঙ্গে উদযাপন করতে পারি। কোচ ও দলের যে ত্যাগ, আজ তার প্রতিদান পেয়েছি,’ বলেন হামজা।

বাংলাদেশের এই ঐতিহাসিক জয়ে কোচ ক্যাবরেরাও স্বস্তি পেয়েছেন। নিজেকে সুখী মানুষ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন,
‘সবচেয়ে খুশি খেলোয়াড়দের জন্য। আমরা আগেই বলেছিলাম, আমরা প্রস্তুত। আজ তা প্রমাণ হলো। ভারতকে হারানো আমাদের কাছে স্বাভাবিক হওয়া উচিত। এই লেভেল আমাদের আছে। সাফের যেকোনো দলকে হারানোর সামর্থ্য রাখি আমরা।’

সাম্প্রতিক খবর

এই বিভাগের আরও খবর