রবিবার, নভেম্বর ৩০, ২০২৫

তিন মামলায় শেখ হাসিনার ২১ বছরের কারাদণ্ড

শেয়ার করুন

ঢাকার পূর্বাচলের সরকারি প্লট বরাদ্দে দুর্নীতির তিনটি পৃথক মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মোট ২১ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। প্রতিটি মামলায় তাকে সাত বছর করে সাজা দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার, ২৭ নভেম্বর, দুপুরে ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন রায় ঘোষণা করেন।

এই তিনটি মামলায় মোট ৪৭ জনকে আসামি করা হলেও ব্যক্তি হিসাবে সংখ্যা ২৩। শেখ হাসিনা, তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় এবং কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুলকে বাদ দিয়ে বাকি ২০ আসামির মধ্যে আছেন সাবেক গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ, জাতীয় গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সাবেক সিনিয়র সহকারী সচিব পূরবী গোলদার, রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান মো. আনিছুর রহমান মিঞা, বিভিন্ন পদে রাজউকের সাবেক কর্মকর্তা এবং প্রধানমন্ত্রীর সাবেক একান্ত সচিব মোহাম্মাদ সালাউদ্দিন। তবে গ্রেফতার আছেন শুধুমাত্র মোহাম্মদ খুরশীদ আলম।

মামলার তদন্তে ৯১ জনের সাক্ষ্যগ্রহণে উঠে এসেছে যে, রাজধানীতে ইতিমধ্যেই জমি থাকা সত্ত্বেও শেখ হাসিনা এবং তার সন্তানরা তা লুকিয়ে সরকারি প্লট গ্রহণ করেন।

দুদক অভিযোগে জানায়, রাজউকের ৩০ কাঠার প্লট অবৈধভাবে নেওয়ার ঘটনায় মামলা করা হয়েছে। আসামিদের আদালতে হাজির করার জন্য সমন, গ্রেফতারি পরোয়ানা এবং পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হলেও তারা উপস্থিত হননি। এর ফলে পলাতক অবস্থাতেই ২৩ জনের বিরুদ্ধে বিচার কার্যক্রম চালানো হয়।

দুদকের অভিযোগপত্রে বলা হয়, শেখ হাসিনা তার ক্ষমতার অপব্যবহার করে ছেলে-মেয়েসহ নিজের নামে সরকারি জমি গ্রহণ করেছেন এবং মিথ্যা হলফনামা দাখিল করেছেন।

রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর গত বছরের ৫ আগস্ট থেকে আওয়ামী লীগ শাসনামলের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ সমালোচনায় আসে।

জানা গেছে, রাজউকের পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ‘ক্ষমতার অপব্যবহার ও অনিয়মের মাধ্যমে’ ৬০ কাঠার প্লট বরাদ্দ নেওয়ার ঘটনায় গত জানুয়ারি মাসে ছয়টি মামলা দায়ের করে দুদক। এসব মামলায় শেখ হাসিনার ছেলেমেয়ে ছাড়াও বোন শেখ রেহানা, ভাগ্নি ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিক, আজমিনা সিদ্দিক রূপন্তী এবং ভাগ্নে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববিকে আসামি করা হয়।

শেখ হাসিনার পরিবারের তিনটি মামলার বিচার একসাথে চলছে, ঠিক যেমন রেহানা পরিবারের তিনটি মামলার বিচার আলাদা আদালতে একসঙ্গে চলছে।

গত ৩১ জুলাই আদালত এসব মামলায় শেখ হাসিনা ও রেহানার পরিবারের সাত সদস্যসহ ২৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। এরপর, ২৩ নভেম্বর যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের পর রায়ের দিন ধার্য করা হয়। রেহানার পরিবারের এক মামলার রায় ১ ডিসেম্বর ঘোষণার জন্য নির্ধারিত হয়েছে।

সাম্প্রতিক খবর

এই বিভাগের আরও খবর