রবিবার, নভেম্বর ৩০, ২০২৫

আখ চাষে ঝুঁকছেন বাগেরহাটের কৃষকেরা

শেয়ার করুন

এক দশক ধরে অন্যের জমি বর্গা নিয়ে কৃষিকাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন আলী আকবর শেখ। একসময় ধান চাষের সাথে জড়িত থাকলেও বাড়তি লাভের আশায় গত বছর ১ বিঘা জমিতে আখ চাষ করেন তিনি। কিন্তু প্রাকৃতিক দুর্যোগে আখ নষ্ট হওয়ায় লোকসান হয় ৬০ হাজার টাকা। তবে তরুণ আকবর থেমে যাননি। ধারদেনা করে চলতি বছর আবারও আখ চাষ করেন। তবে জমির পরিমাণ কিছুটা কম। ১০ কাঠা জমিতে চাষাবাদ করে চলতি মৌসুমে লাভ করেন ৭০ হাজার টাকার বেশি।

বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার ফুলতলা গ্রামের আলী আকবর বলেন, ‘গত বছর দুর্যোগের মাত্রা বেশি ছিল। আমাদের এলাকার বেশিরভাগ চাষির লোকসান হয়। এ বছর আখের ফলন ভালো হয়েছে, দামও ভালো পেয়েছি। কিন্তু ধারদেনা করে চাষ করি। গত বছরের লোকসানের ঋণ শোধ করতে হবে। সারা বছর চার সদস্যের পরিবার নিয়ে কীভাবে চলবো সেই চিন্তায় আছি। চাষিরা ঘুরে দাঁড়াতে কৃষি অফিস থেকে সামান্য সহযোগিতাও পান না।’

একই এলাকার আখ চাষি ফিরোজ আহমেদ বলেন, ‘আখ চাষে প্রচুর খরচ। ফসফেট, টিএসপি, পটাশ সার দিতে হয়। ওষুধ দেওয়া লাগে ৫ থেকে ৬ বার। এগুলোর দাম দিন দিন বাড়ছে। আমাদের দুঃখ দেখার কেউ নেই। কৃষি অফিস থেকেও কোনো সার বা ওষুধ পাই না। তবে এবার বাম্পার ফলন হয়েছে। প্রতি হাটবারে বাজার জমে ওঠে বেশ।’

কচুয়া উপজেলার বাধাল বাজারে দেখা যায়, ভোরের আলো ফুটতেই ক্রেতা-বিক্রেতাদের হাকডাকে মুখর বাজারটি। ভোর থেকেই জেলার বিভিন্ন জায়গা থেকে ভ্যান, পিকাপ ও ট্রাকে করে নিয়ে আসা আখ বেচাকেনা চলে।

বাজার সমিতি জানায়, রোববার ও বৃহস্পতিবার ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকার আখ বিক্রি হয় এ বাজারে। চাষিদের থেকে পাইকারদের হাত ঘুরে এ আখ চলে যায় দেশের বিভিন্ন স্থানে। প্রতি একশ আখ পাইকারি মান ও আকার ভেদে ৩ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়।

স্থানীয় ব্যবসায়ী আল আমিন বলেন, ‘আমি এ বাজারে ৩০ বছরের মতো আখের ব্যবসা করি। এ বাজার থেকে ভোলা, পটুয়াখালী, বরগুনা, যশোর, বরিশালসহ বিভিন্ন অঞ্চলের লোকজন এসে কিনে নিয়ে যায়। বাধাল বাজারে প্রতি হাটে ৮ থেকে ১০ লাখ টাকার আখ বিক্রি হয়। এ হাটে খুচরা ও পাইকারি আখ বিক্রি হয়।’

বাধাল বাজারের ইজারাদার খান শহিদুজ্জামান মিল্টন বলেন, ‘কচুয়ায় বৃহৎ একটি অংশে আখ চাষ হয়। বাধাল বাজারে সাতক্ষীরা, খুলনা, রংপুরসহ দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে পাইকাররা আসেন। তাদের আন্তরিকতার সাথে দেখাশোনা করা হয়। নিরাপত্তা দেওয়া। অতিরিক্ত খাজনা নেওয়া হয় না। তাই পাইকাররা এখানে স্বাচ্ছন্দ্যে কেনাবেচা করেন।’

কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এ বছর বাগেরহাটে প্রায় ৭৫০ একর জমিতে আখ চাষ হয়েছে। যাতে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ১১ হাজার মেট্রিক টন। বাগেরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মোতাহার হোসেন বলেন, ‘ধান, সরিষা, সূর্যমুখী চাষিদের সরকার প্রণোদনা দেয়। প্রণোদনা দিয়ে তাদের উৎসাহিত করা হয়। কিন্তু আখ চাষিদের জন্য এ ধরনের কোনো প্রণোদনা নেই।

তিনি বলেন, ‘আখ থেকে গুড় ও চিনি হয়। প্রতি বছর বিদেশ থেকে চিনি আমদানি করে চাহিদা মেটাতে হয়। আমরা যদি চাষিদের প্রণোদনা দিয়ে উৎসাহিত করি, তাহলে আখের আবাদ আরও বৃদ্ধি করা যেতে পারে। আমরা আগামীতে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে সুপারিশ করবো, যাতে আখ চাষিদের প্রণোদনা দেওয়া হয়।’

সাম্প্রতিক খবর

এই বিভাগের আরও খবর