রবিবার, নভেম্বর ৩০, ২০২৫

খালেদা জিয়ার অবস্থার উন্নতি হয়নি, তবে স্থিতিশীল আছে

শেয়ার করুন

তিন দিন ধরে একই শারীরিক অবস্থার মধ্যে রয়েছেন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। উন্নত চিকিৎসার উদ্দেশ্যে তাঁকে বিদেশে নেওয়ার প্রস্তুতি চললেও চিকিৎসকরা মনে করছেন, এখনই দীর্ঘ ভ্রমণ সহ্য করার মতো শারীরিক সক্ষমতা তাঁর নেই। মেডিকেল বোর্ড সবুজ সংকেত দিলে দ্রুত বিদেশে নেওয়ার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হবে। হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর তিনি খুব একটা সাড়া দিচ্ছিলেন না, তবে গতকাল শনিবার দুয়েকটি কথা বলেছেন বলে পরিবার জানায়।

চিকিৎসকদের ভাষ্যমতে, তিনি অত্যন্ত জটিল শারীরিক অবস্থার মধ্যে আছেন। নিয়মিত ডায়ালাইসিস চলেছে এবং গতকাল রাত ১০টার দিকে একটি সেশন শেষ হয়। এতে অবস্থার কোনো উন্নতি না এলেও কিছুটা স্থিতিশীলতা ফিরে এসেছে।

মেডিকেল বোর্ডের একাধিক সদস্য জানান, সামনে কয়েকটি দিন খুব গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর কিডনি কার্যক্ষমতায় স্থিরতা না এলে সার্বিক উন্নতি কঠিন। ২৩ নভেম্বর তাঁকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং শুক্রবার গভীর রাতে তাঁর অবস্থার অবনতি ঘটে। দীর্ঘদিন ধরে এখানকার চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানেই তিনি আছেন। বোর্ডের একজন সদস্য জানান, শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক রাখতে অক্সিজেন দেওয়া হচ্ছে। তিনি হাত-পা নড়াচড়া করতে পারছেন এবং গতকাল কয়েকটি কথা বলেছেন।

পরিবার ও বিএনপি তাঁকে বিদেশে পাঠানোর প্রস্তুতি নিয়ে কাজ করছে। গতকাল বিকেলে সংবাদ ব্রিফিংয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ভিসা, সম্ভাব্য কয়েকটি দেশের সঙ্গে যোগাযোগ এবং এয়ার অ্যাম্বুলেন্স নিশ্চিত করার বিষয়ে আলোচনা চলছে। তিনি বলেন, ‘যদি প্রয়োজন হয় এবং তিনি বিমানে যাতায়াতের জন্য উপযুক্ত হন; তাহলে এ ব্যাপারে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

মির্জা ফখরুল আরও বলেন, খালেদা জিয়া এখনো “সংকটাপন্ন”। দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে চিকিৎসা চলছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের জনস হপকিনস ও লন্ডনের লন্ডন ক্লিনিকের চিকিৎসকরাও চিকিৎসা প্রক্রিয়ায় যুক্ত রয়েছেন।

দলের একটি সূত্র জানিয়েছে, আগামী সোমবার চীনের একটি চিকিৎসক দল ঢাকায় এসে তাঁর অবস্থা পর্যবেক্ষণ করতে পারে। মেডিকেল বোর্ডের একজন চিকিৎসক বলেন, তাঁর হৃদপিণ্ডে জটিলতা দেখা দিয়েছে এবং অগ্ন্যাশয়ের তীব্র প্রদাহ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।

হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. শাহাবুদ্দিন তালুকদারের নেতৃত্বে গঠিত বোর্ড তাঁর চিকিৎসায় পরামর্শ দিচ্ছে। গতকাল সন্ধ্যায় তিনি বলেন, খালেদা জিয়া স্থিতিশীল থাকলেও বিপদমুক্ত নন। শুক্রবার রাতের তুলনায় তাঁর অবস্থা কিছুটা ভালো, যদিও অক্সিজেন লেভেল কম রয়েছে।

রাতে এভারকেয়ার হাসপাতালের সামনে তাঁর ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এ জেড এম জাহিদ হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘সারা পৃথিবীর সবচেয়ে ভালো যে চিকিৎসা ব্যবস্থা করা প্রয়োজন, সেটি এখানে করার আয়োজন করা হয়েছে।’ তিনি জানান, গত তিন দিন ধরে তাঁর অবস্থায় তেমন কোনো পরিবর্তন আসেনি।

জাহিদ হোসেন বলেন, বৃহস্পতিবার থেকে তাঁকে সিসিইউতে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান চিকিৎসা-সংক্রান্ত সব কার্যক্রম তদারক করছেন এবং বোর্ডের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করছেন।

ফুসফুসের সংক্রমণ ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে নিউমোনিয়া ধরা পড়ে। কিডনি, লিভার, আর্থ্রাইটিস ও ডায়াবেটিসের দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা থাকায় একটির চিকিৎসায় আরেকটি আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

মেডিকেল বোর্ডের এক সদস্য জানান, যুক্তরাজ্য, সৌদি আরব, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে অনলাইনে কথা বলা হচ্ছে। পরিবার ও তারেক রহমান তাঁকে লন্ডন বা সিঙ্গাপুরে নেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন, আর চীন থেকেও চিকিৎসার প্রস্তাব এসেছে। এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের জন্য কুয়েত ও সিঙ্গাপুরে যোগাযোগ করেছে পরিবার। সব সিদ্ধান্ত নির্ভর করছে তাঁর সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা এবং বোর্ডের মতামতের ওপর।

তারেক রহমানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন ফেসবুকে লিখেছেন, সামান্য উন্নতি হলেই তাঁকে লন্ডনে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের বিষয়ে কাতার দূতাবাসের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হচ্ছে।

হাসপাতালে অতিরিক্ত ভিড় না করার আহ্বান জানানো হয়েছে। নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে হাসপাতালের কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় বিএনপির পক্ষ থেকে সবাইকে এভারকেয়ার এলাকায় না জড়ো হওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। মির্জা ফখরুল বলেন, তিন শতাধিক রোগী এখানে চিকিৎসাধীন, তাই ভিড় না করার অনুরোধ করছি।

গতকাল শনিবার সারাদেশে বিএনপি ও অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্যোগে খালেদা জিয়ার আরোগ্য কামনায় দোয়া-মিলাদ অনুষ্ঠিত হয়। বিভিন্ন দলের নেতারা হাসপাতালে গিয়ে তাঁর খোঁজ নেন, আর সামাজিক মাধ্যমে অনেকে সুস্থতা কামনা করে পোস্ট করেন ও স্মৃতিচারণ করেন।

সাম্প্রতিক খবর

এই বিভাগের আরও খবর