যুদ্ধ, সংঘাত কিংবা যেকোনো সংকটকালীন পরিস্থিতিতে নারীরা সবচেয়ে বেশি সহিংসতা ও বৈষম্যের শিকার হন। এই বাস্তবতা থেকে উত্তরণে শান্তি, নিরাপত্তা ও মানবাধিকার সংরক্ষণের সব ক্ষেত্রেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় নারীর সক্রিয় ও অর্থবহ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি—এমন অভিমত ব্যক্ত করেছেন বক্তারা।
জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ১৩২৫ নম্বর রেজুলেশন গ্রহণের ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে সম্প্রতি ( বৃহস্পতিবার) ঢাকার আগারগাঁওয়ে সমাজসেবা অধিদপ্তরের মধুমতি অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন। ইউএন উইমেনের সহযোগিতায় বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘ (বিএনপিএস) এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। উদ্বোধনী পর্বে আরশি শিল্পগোষ্ঠীর নৃত্য পরিবেশনার মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, পুরুষতান্ত্রিক আধিপত্য, একপেশে গণতান্ত্রিক চর্চা, নারীবিদ্বেষী প্রচারণা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের কারণেই লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা টিকে আছে। এই সহিংসতা থেকে সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হলে নীতিনির্ধারণ ও শান্তি প্রতিষ্ঠার সব পর্যায়ে নারীর অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব রায়হান মাহমুদ হান্নান জানান, নারী, শান্তি ও নিরাপত্তাবিষয়ক জাতীয় কর্মপরিকল্পনা ২০১৯ সালে গৃহীত হলেও কোভিড-১৯ এর কারণে তা পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। তিনি বলেন, শান্তিরক্ষায় নারীর অংশগ্রহণকে ব্যয় নয়, বিনিয়োগ হিসেবে ভাবতে হবে।
সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. সাইদুর রহমান খান নারীর বিরুদ্ধে ঘৃণামূলক প্রচারণা ও সাইবার সহিংসতা বন্ধের আহ্বান জানান। পাশাপাশি বৈষম্যমূলক আইন বাতিল, জেন্ডার ও মানবাধিকার বিষয়ে সেবাদানকারীদের প্রশিক্ষণ এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় জেন্ডার দৃষ্টিভঙ্গি যুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেন।


