বাংলাদেশে প্রচলিত শাকসবজির মধ্যে কালাই (কলই) শাক বরাবরই পুষ্টিগুণ ও স্বাদে আলাদা স্থান দখল করে আছে। একসময় শুধুই বাড়ির আঙিনার পরিচিত সবজি হলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এ শাকের চাহিদা বাড়ায় কৃষকেরা এটিকে বাণিজ্যিকভাবে চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। কৃষি বিভাগও বলছে—সঠিক পরিকল্পনা ও বাজার ব্যবস্থাপনা করলে কালাই শাক দেশের অন্যতম লাভজনক শাক-ফসলে পরিণত হতে পারে।
দ্রুত বাড়ে, ব্যয় কম—লাভের হার বেশি
কালাই শাকের অন্যতম সুবিধা হলো, এ ফসল খুব দ্রুত বৃদ্ধি পায়। বীজ বপনের ২৫–৩০ দিনের মধ্যেই শাক কাটার উপযোগী হয়ে ওঠে।
কৃষকদের মতে, প্রতি বিঘা জমিতে কালাই শাক চাষে গড়ে ৪–৬ হাজার টাকা ব্যয় হয়। একই জমি থেকে মাসে দুই থেকে তিনবার শাক সংগ্রহ সম্ভব, যার বাজার মূল্য দাঁড়ায় প্রতি বিঘায় মাসে প্রায় ১০–১৫ হাজার টাকা। ফলে কম বিনিয়োগে দ্রুত অর্থ ফেরত আসে।
চাহিদা বাড়ছে শহর ও গ্রামে
সাম্প্রতিক সময়ে শহরাঞ্চলের ভোক্তাদের মধ্যে স্থানীয় ও পুষ্টিকর শাকের প্রতি আগ্রহ বেড়েছে। কালাই শাক আয়রন, অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও আঁশে সমৃদ্ধ হওয়ায় এটি প্রতিদিনের সবজির তালিকায় নজর কাড়ছে। রেস্তোরাঁ ও হোটেলগুলোর সালাদ, ভাজি ও ভর্তা মেনুতেও শাকটির ব্যবহার বাড়ছে। ফলে পাইকারি বাজারে সরবরাহ ও বেচাকেনার হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
রপ্তানির সম্ভাবনা উজ্জ্বল
বাংলাদেশ থেকে শাকসবজি রপ্তানি বাণিজ্যে বড় অংশ দখল করে দক্ষিণ এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের বাজার। রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর মতে, সঠিকভাবে প্যাকেটজাত ও ঠান্ডা চেইন ব্যবস্থায় কালাই শাক দীর্ঘ সময় সতেজ থাকে। কিছু দেশে ইতিমধ্যে পরীক্ষামূলক চালান পাঠানো হয়েছে এবং সেখানকার ভোক্তাদের আগ্রহ আশাব্যঞ্জক।
জলাবদ্ধতা ও রোগবালাই—চাষাবাদের চ্যালেঞ্জ
চাষিদের মতে, বর্ষার সময় অতিরিক্ত আর্দ্রতা ও জলাবদ্ধতায় কালাই শাকে পাতা পচা ও ছত্রাকজনিত রোগ দেখা দিতে পারে। তবে নিয়মিত নালিখন, জৈব সার ব্যবহারে মাটির স্বাস্থ্য ভালো রাখা এবং সমন্বিত রোগ ব্যবস্থাপনা (IPM) অনুসরণ করলে এ সমস্যা অনেকাংশে কমানো সম্ভব।
কৃষি বিভাগের পরামর্শ
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বলছে, কালাই শাককে বাণিজ্যিকভাবে আরও এগিয়ে নিতে গ্রামীণ বাজারে শীতলীকরণ সুবিধা, উন্নতমানের বীজ বিতরণ এবং কৃষকদের প্রশিক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ছোট জমিতেও লাভবান হওয়া যায় বলে এ শাক দারিদ্র্য হ্রাসেও অবদান রাখতে পারে।


