বাংলাদেশে সারা বছরই সুলভে পাওয়া যায় বাদাম। ভাজা বাদাম, সিদ্ধ বাদাম কিংবা চীনাবাদাম—যে নামেই পরিচিত হোক, পুষ্টিগুণের বিচারে এটি অন্যতম সেরা খাবার। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত সামান্য পরিমাণ বাদাম খাওয়া হৃদ্রোগ প্রতিরোধ থেকে শুরু করে মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা বাড়াতে বড় ভূমিকা রাখে।
শরীরের জন্য ‘সুপার ফুড’ কেন বাদাম?
১. প্রোটিনের উৎকৃষ্ট উৎস
১০০ গ্রাম বাদামে প্রায় ২৫ গ্রাম উদ্ভিজ্জ প্রোটিন থাকে। যারা দিনমজুর, ক্রীড়াবিদ বা ভারী শ্রম করেন, তাদের জন্য বাদাম শক্তি ও পেশি গঠনের জন্য অত্যন্ত উপকারী।
২. হৃদ্রোগের ঝুঁকি কমায়
বাদামে থাকে—
- মনোআনস্যাচুরেটেড ফ্যাট
- ওমেগা–৬ ফ্যাটি অ্যাসিড
- ম্যাগনেসিয়াম
এগুলো দেহে ‘খারাপ কোলেস্টেরল’ (LDL) কমায় এবং হৃদ্স্বাস্থ্যের জন্য বিশেষভাবে উপকারী।
৩. শক্তির বড় ভাণ্ডার
কার্বোহাইড্রেট, স্বাস্থ্যকর ফ্যাট এবং প্রোটিন মিলিয়ে বাদাম শরীরে তাৎক্ষণিক ও দীর্ঘস্থায়ী শক্তি যোগায়। স্কুল–কলেজপড়ুয়া ও কর্মজীবী মানুষের জন্য এটি আদর্শ স্ন্যাকস।
৪. ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সহায়ক
এর গ্লাইসেমিক ইনডেক্স কম—যার ফলে রক্তে শর্করা হঠাৎ বাড়ে না। তাই ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য অল্প পরিমাণ বাদাম নিরাপদ ও উপকারী।
৫. মস্তিষ্ক ও স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি
বাদামে থাকা ভিটামিন E, ফোলেট, এবং অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট মস্তিষ্ককে সুরক্ষা দেয় এবং স্মৃতিশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে।
৬. ত্বক ও চুলের সৌন্দর্য রক্ষক
বাদামের তেলে রয়েছে ভিটামিন–E ও স্বাস্থ্যকর ফ্যাট, যা ত্বককে মসৃণ করে, চুল মজবুত করে এবং বয়সের ছাপ কমাতে সহায়ক।
পুষ্টিগুণ (১০০ গ্রামে)
| উপাদান | পরিমাণ |
|---|---|
| ক্যালরি | ৫৬০ কিলোক্যালরি |
| প্রোটিন | ২৫–২৬ গ্রাম |
| ফ্যাট | ৪৮–৫০ গ্রাম (স্বাস্থ্যকর ফ্যাট) |
| কার্বোহাইড্রেট | ১৬ গ্রাম |
| ফাইবার | ৮–৯ গ্রাম |
| ক্যালসিয়াম | ৯২ মিগ্রা |
| ম্যাগনেসিয়াম | ১৬৮ মিগ্রা |
| আয়রন | ৪.৬ মিগ্রা |
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ
পুষ্টিবিদদের মতে, প্রতিদিন ৩০–৫০ গ্রাম বাদাম খাওয়া নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর। তবে ভাজা বাদামের তুলনায় কাঁচা বা কম নুনযুক্ত বাদাম বেশি উপকারী।
স্বল্প দামে উচ্চ পুষ্টিগুণ—বাদাম তাই শুধু খাবার নয়, বরং প্রতিদিনের ‘স্বাস্থ্য বিনিয়োগ’।
এটি শিশু থেকে বয়স্ক—সব বয়সের মানুষের জন্য অপরিহার্য খাবার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।


