শুক্রবার, জানুয়ারি ১৬, ২০২৬

বীজতলা তৈরি ও চারা উৎপাদনে ব্যস্ত কৃষক

শেয়ার করুন

ন্সীগঞ্জ জেলায় চলতি মৌসুমে শীতকালীন সবজির চাষাবাদ নিয়ে কৃষকদের মধ্যে এখন পুরোদমে তোড়জোড় শুরু হয়েছে। সারাদেশের মধ্যে এখানকার কৃষকরা বীজতলা প্রস্তুত, চারা উৎপাদন ও বিক্রি নিয়ে অত্যন্ত ব্যস্ত সময় পার করছেন। চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় উৎপাদিত চারা ও সবজিতে কৃষকরা ভালো লাভের মুখ দেখছেন, ফলে তাদের মুখে স্বস্তির হাসি ফুটেছে।

মুন্সীগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে জেলায় ৪ হাজার ৯০০ হেক্টর জমিতে শীতকালীন সবজি আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ লাখ ২৫ হাজার ৪২৩ টন শাকসবজি। জেলার ৬টি উপজেলায় এই লক্ষ্যমাত্রা ভাগ করে দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে সদর উপজেলায় ৯৬৯ হেক্টর এবং সিরাজদিখানে ১ হাজার ৬০২ হেক্টর জমিতে চাষের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।

এই কৃষি কার্যক্রমকে উৎসাহিত করতে সরকার থেকে চলতি মৌসুমে জেলায় ১ হাজার ৫০০ জন বসতবাড়ির এবং ২ হাজার ৭০০ জন মাঠ কৃষককে প্রণোদনা হিসেবে বীজ ও সার প্রদান করা হয়েছে। জেলায় কৃষকরা মূলত ফুলকপি, বাঁধাকপি, লাউ, টমেটো, ব্রকলি, কুমড়া, লাল শাক, পালংশাক ও মুলার মতো সবজির চারা বিক্রি ও চাষ করে থাকেন।সদর উপজেলার পঞ্চসার ইউনিয়নের ভট্টাচার্যেরবাগ গ্রামের কৃষক দুলাল শিকদার তার ৪২ শতাংশ জমিতে বীজতলা করেছেন, যেখানে খরচ হয়েছে প্রায় ৮ লাখ টাকা। তিনি জানান, চারা উৎপাদনে বীজতলার অধিক যত্ন নিতে হয় এবং সবজি চারা উৎপাদনে বিনিয়োগ করে অর্ধেক পরিমাণ লাভ হয়।

রামপাল ইউনিয়নের কৃষক কামাল শেখ বলেন, মুন্সীগঞ্জের উঁচু জমির মালিকরা একই জমিতে তিন থেকে চারবার সবজি বীজ থেকে চারা উৎপাদন করতে পারেন। এখানকার বীজতলার চারা উৎকৃষ্ট মানের হওয়ায় সারাদেশের বিভিন্ন জেলার কৃষকের কাছে এর চাহিদা অনেক বেশি। স্থানীয় চাহিদা মেটানোর পর এখানকার সবজির চারা কেরানীগঞ্জ, সাভার, মানিকগঞ্জ, সিলেট, কুমিল্লা, হবিগঞ্জ, চাঁদপুর ও বরিশালসহ দেশের ২৫টি জেলায় পাইকারদের কাছে বিক্রি করা হয়ে থাকে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. মো. হাবিবুর রহমান জানান, চলতি মৌসুমে চারা উৎপাদনে সরকার থেকে কৃষকদের প্রণোদনা হিসেবে সার ও বীজ দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলন ভালো হয়েছে এবং শীতকালীন সবজির চারা উৎপাদন এই অঞ্চলে লাভজনক পেশায় পরিণত হয়েছে। মুন্সীগঞ্জে চারা উৎপাদনে জৈব সার ও খৈল ব্যবহার হওয়ায় এখানকার চারার গুণগতমান ভালো এবং এই উৎপাদিত চারা স্থানীয় কৃষকদের চাহিদা পূরণ করে দেশের এক-তৃতীয়াংশের বেশি জেলায় বিক্রি হচ্ছে।

সাম্প্রতিক খবর

এই বিভাগের আরও খবর