কৃষিপণ্যের উৎপাদন বৃদ্ধি, বাজারজাতকরণের সাথে সংশ্লিষ্ট অংশগ্রহণকারীদের পেশাগত সম্পর্ক উন্নয়ন এবং স্থানীয় বাজার ব্যবস্থায় সংযোগ জোরদার করার লক্ষ্যে কৃষির উর্বরভূমি কক্সবাজারের রামুতে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও)-এর সহযোগিতায়|
সেন্টার ফর ন্যাচারাল রিসোর্স স্টাডিজ (সিএনআরএস)-এর উদ্যোগে দিনব্যাপী বিশেষ কৃষিপণ্য মেলার আয়োজন করা হয়, যা রামু উপজেলার কৃষি সম্প্রসারণ অফিস প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়।
মেলায় আগত কৃষকেরা জানান, এই প্রকল্পের মাধ্যমে তারা ১২ জন করে দলে বিভক্ত হয়ে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন, যেখানে সার তৈরি করার পদ্ধতি শিখে এখন তারা নিজেরাই বাসায় ভার্মি কম্পোস্ট সার তৈরি করছেন|
যার ফলে ফসলে পোকা-মাকড়ের আক্রমণ হলেও তারা তা দমন করতে পারছেন এবং আগে যে সমস্ত কৃষক বিষ বা রাসায়নিক সার ব্যবহার করতেন, তারা এখন বিষমুক্ত সবজি উৎপাদনে আগ্রহী হয়ে বেগুন, টমেটো, কফি, মূলাসহ বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ করছেন। তারা আরও জানান যে, এই সংগঠনগুলোর মাধ্যমে তারা বীজ সংগ্রহ করে চাষাবাদে এগিয়ে যাচ্ছেন এবং তারা এখন কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে ইয়েলো ট্র্যাপ ও প্যারামন ট্র্যাপের মতো পোকা দমন পদ্ধতি ব্যবহার করছেন।
এই প্রকল্পের আওতায় মোট ১৬০ জন উপকারভোগীকে সহযোগিতা করা হচ্ছে এবং তারা যেন বাহিরের রাসায়নিক সার ব্যবহার না করে নিজেদের উৎপাদিত ভার্মি কম্পোস্ট দিয়ে সবজির ফলন বাড়াতে পারে সেই চেষ্টা অব্যাহত আছে।
মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কক্সবাজারের উপপরিচালক ডক্টর বিমল কুমার প্রামাণিক, যিনি তার বক্তব্যে বলেন যে এ ধরনের মেলাগুলো থেকে কৃষক সরাসরি ব্যবহারিক জ্ঞান লাভ করে যা তারা তাদের মাঠে প্রয়োগ করতে পারে, ফলে উৎপাদন বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন নিশ্চিত করা সম্ভব হয় এবং কৃষি বিভাগের মূল কাজ হচ্ছে কৃষকের মাঝে নতুন নতুন প্রযুক্তি ছড়িয়ে দেওয়া ও সেগুলোর বাস্তবায়নে সৃষ্ট সমস্যা সমাধান করা।
রামু উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তানজিলা রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই আয়োজনে অতিথিরা বলেন যে, যুগ যুগ ধরে পর্যবেক্ষণ করে ও দেখে শিখে কৃষি উৎপাদন কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং খাদ্য চাহিদা পূরণের ক্ষেত্রে কৃষক ও কৃষানিরা সমাজের সবথেকে উঁচু মানের কর্মের সাথে জড়িত থেকে যথেষ্ট পরিমাণে অবদান রাখছেন, আর আগে বন-জঙ্গলের খাবার পর্যবেক্ষণ থেকে শুরু করে ধাপে ধাপে আজকের আধুনিক কৃষি এই পর্যায়ে এসেছে।
এফএও প্রতিনিধি হিসেবে বক্তব্য রাখা বক্তা বলেন যে, আবহাওয়া ও পণ্যের ন্যায্যমূল্য না পাওয়া — এই দুটি প্রধান চ্যালেঞ্জ কৃষি ক্ষেত্রে মোকাবিলা করতে হয়, তবে এফএও সহযোগী এনজিওদের সঙ্গে নিয়ে এগ্রিগেশন সেন্টার তৈরির মাধ্যমে একটি বাজার সংযোগ তৈরি করছে, যার ফলে কৃষকেরা তাদের উৎপাদিত পণ্যের কোথায় কীভাবে বিক্রি করবেন তার ন্যায্যমূল্য পাবেন কিনা সে বিষয়ে একটি প্রাথমিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এই দিনব্যাপী মেলায় মোট ১৪টি স্টলে বিভিন্ন ধরনের কৃষিপণ্য, বীজ, কৃষি উপকরণ, কৃষি যান্ত্রিকীকরণ প্রযুক্তি এবং বাজার সংক্রান্ত সেবা প্রদর্শন করা হয়, যেখানে কৃষক, কৃষি উপকরণ বিক্রেতা, বীজ কোম্পানি, সবজি ক্রেতা এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করে এবং রামু উপজেলার তিনটি কৃষিপণ্য উৎপাদন ও বিপণন কেন্দ্র সমবায় সমিতি লিমিটেড তাদের কার্যক্রম প্রদর্শন করে স্থানীয় ও ক্যাম্প বাজারে সংযোগ ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণে তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা তুলে ধরে।


