ফরিদপুরের চরাঞ্চলের কৃষি জমি বর্তমানে সরিষা ফুলের হলুদ রঙে ছেয়ে গেছে, যেখানে মৌমাছিরা সরিষা ফুলের ডগায় বসে পরাগায়ন ঘটাতে ব্যস্ত। ভোজ্য তেলের আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে আনার লক্ষ্যে এই চরাঞ্চলের ফসল জমিতে সরিষার আবাদ |
দিন দিন বাড়ছে; গত বছর সরিষার ভালো বাজার দর পাওয়ায় এ বছর কৃষকরা উচ্চ ফলনশীল জাতের সরিষা যেমন বিনা-৪, ৯, ১০, ১১, বারি সরিষা-৯, ১৪, ১৫, ১৭, ১৮, টরি-৭ এবং রায়-৫ জাতের আবাদ করেছেন।
সরিষা তেলের চাহিদা বৃদ্ধির কারণে এ বছর তারা বেশি করে সরিষা আবাদ করেছেন এবং ফলনও ভালো হবে বলে আশা করছেন; কৃষকরা প্রত্যাশা করছেন বাজার দর ভালো থাকলে প্রতি বিঘা থেকে ১৮ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত
বিক্রি করতে পারবেন। তবে এ বছর মৌসুমের শুরুতেই সারের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় সরিষা আবাদে কৃষকদেরকে হিমসিম খেতে হচ্ছে, যেখানে গত বছর ১ হাজার ৫০ টাকা করে কেনা সার এবার বেশি দামে কিনতে হচ্ছে বলে কৃষক জানান।
এদিকে সরিষার ফলন বৃদ্ধিতে জমিতে অতিরিক্ত সার ব্যবহার না করার পরামর্শ দিয়েছে কৃষি বিভাগ, কারণ সরিষা চাষে একেবারে ন্যূনতম পরিমাণে সার লাগে এবং কেউ যদি অতিরিক্ত ইউরিয়া বা ডিএপি সার ব্যবহার করতে চায়, সেক্ষেত্রে উৎপাদিত বীজে তেলের পারসেন্টেজ কমে যায়।
কৃষি বিভাগ উঠান বৈঠক এবং বিভিন্ন মিটিংয়ের মাধ্যমে কৃষকদেরকে সরিষা চাষে অতিরিক্ত সার ব্যবহার না করার জন্য সবসময় পরামর্শ দিচ্ছে। কৃষি বিভাগ আরও জানিয়েছে যে, ফরিদপুর জেলায় এ বছর ১৪ হাজার ৪৬৩ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে, যা থেকে প্রায় ২১ মেট্রিক টন সরিষা উৎপাদিত হবে বলে তারা আশা করছেন।


