বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বালাইনাশকের কাঁচামাল আমদানিতে সুবিধা দিতে যাচ্ছে, তবে কৃষিবিদ অধ্যাপক ডক্টর সদরুল আমিনের মতে এই বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও প্রযুক্তিগত বিধিবদ্ধ পণ্য হওয়ায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এই পদক্ষেপ কৃষকের খুব বেশি উপকারে আসবে না, বরং এই সুবিধাটি হবে একটি খাঁটি ব্যবসায়িক উদ্যোগ।
তিনি বলেন, বালাইনাশক মূলত কৃষি, ভেটেরিনারি, হাউজহোল্ড এবং জনস্বাস্থ্য—এই চার ধরনের হলেও দেশের বাজারে ব্যবহৃত কৃষি বালাইনাশকের বেশিরভাগই চীন বা ভারতসহ অন্যান্য দেশ থেকে সরাসরি প্রস্তুতকৃত বা ফাইনাল পণ্য হিসেবে আমদানি করা হয় এবং এতে কাঁচামাল আমদানির দাম কমানো বা বাড়ানোর তেমন কোনো প্রভাব পড়ে না।
যদিও এসিআই, অটো ক্রপ কেয়ার বা নেটিভ ক্রপ কেয়ারের মতো কয়েকটি বড় কোম্পানি কিছু পরিমাণে ফর্মুলেশন বা উৎপাদন করলেও তার পরিমাণ খুবই কম এবং সরাসরি আমদানির জিনিসই বাজারে বেশি, যেখানে আমদানিকারকরা মূলত বিদেশ থেকে আনা পণ্য দেশে এনে কেবল রিপ্যাকেজিং করে থাকে।
এই খাতের সবচেয়ে বড় খরচটি হলো, একটি নতুন বালাইনাশক আমদানির পর সরকার কর্তৃক বাধ্যতামূলক দুই থেকে তিন বছরের জন্য কৃষক ও কৃষি বিভাগকে নিয়ে যে ফিল্ড ট্রায়াল দিতে হয়, সেটির খরচ অনেক বেশি; তাই কাঁচামাল আমদানিতে সুবিধা না দিয়ে বরং এই ফিল্ড ট্রায়ালের খরচ যদি কমানো যায় বা সরকার থেকে ভর্তুকি দেওয়া হয়, তবে কৃষক সরাসরি উপকৃত হবে এবং সরকারেরও কৃষককে উপকৃত করার উদ্দেশ্য সফল হবে। এই মুহূর্তে বালাইনাশকের মতো অত্যন্ত প্রযুক্তিগত একটি পণ্যের নকল বা আসল যাচাই করার জন্য বাংলাদেশে কোনো মানসম্মত টেস্টিং ল্যাবরেটরি নেই এবং অটো ক্রপ কেয়ারের একটি পরীক্ষাগার থাকলেও সেটি খুবই সীমিত, তাই বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এই সিদ্ধান্তের আগে প্ল্যান্ট প্রটেকশন ডাইরেক্টরেট এবং কৃষিবিভাগকে নিয়ে বিষয়টি প্রযুক্তিগতভাবে দেখা উচিত এবং টেস্টিং ল্যাবরেটরি শক্তিশালী করার ওপর জোর দেওয়া উচিত। কৃষিবিদ আরও আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, যদি কেবল টাকা-পয়সার হিসাব করে কাঁচামাল আমদানিতে সুবিধা দেওয়া হয়, তবে অনেক অসাধু ব্যবসায়ী মাল্টি-ইউজ কাঁচামাল আমদানি করে কৃষির নাম ব্যবহার করে প্রসাধনী বা অন্যান্য খাতে বিক্রি করবে এবং আন্তর্জাতিকভাবে ডিডিটি, এনড্রিন, ডাইরিন-এর মতো যে সমস্ত পুরোনো বিষাক্ত পণ্য বন্ধ আছে, সেগুলির কাঁচামালও যেন কোনোভাবেই দেশে আনা না হয় সেদিকে কড়া নজর দেওয়া আবশ্যক। তিনি স্পষ্ট করে জানান, পুরোনো অনেক আইটেমেই দেশের পোকামাকড় রেজিস্ট্যান্ট হয়ে গেছে বিধায় জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বর্তমানে নতুন যে কম বিষাক্ত পণ্যগুলো তৈরি হচ্ছে সেগুলোর আমদানি ও অনুমোদন প্রক্রিয়ায় গুরুত্ব দেওয়া এবং অনুমোদন সঠিকভাবে হচ্ছে কিনা তা নিশ্চিত করা দরকার, অন্যথায় বাংলাদেশ থেকে কৃষিপণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে বিদেশ থেকে সুস্পষ্ট তথ্যের অভাবে তা প্রত্যাখ্যাত হতে পারে।


