দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে বাদাম চাষ। কম সময়, তুলনামূলক কম খরচ এবং ভালো বাজারমূল্যের কারণে কৃষকেরা এই চাষের দিকে ঝুঁকছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ করলে বাদাম চাষ হতে পারে লাভজনক একটি ফসল।
মাটি ও জমি প্রস্তুতি
বাদাম চাষের জন্য বেলে দো-আঁশ বা দো-আঁশ মাটি সবচেয়ে উপযোগী। জমিতে পানি জমে থাকে এমন জায়গা বাদাম চাষের জন্য অনুপযুক্ত। চাষের আগে জমি ২–৩ বার ভালোভাবে চাষ ও মই দিয়ে ঝুরঝুরে করে নিতে হয়।
বীজ নির্বাচন ও বপন পদ্ধতি
উন্নত ও রোগমুক্ত জাতের বীজ নির্বাচন করা অত্যন্ত জরুরি। সাধারণত সারি থেকে সারির দূরত্ব ৩০–৩৫ সেন্টিমিটার এবং গাছ থেকে গাছের দূরত্ব ১০–১২ সেন্টিমিটার রাখা হয়। বীজ ৪–৫ সেন্টিমিটার গভীরে বপন করলে ভালো ফলন পাওয়া যায়।
সার ও সেচ ব্যবস্থাপনা
প্রতি বিঘা জমিতে গোবর সার, ইউরিয়া, টিএসপি ও এমওপি সুষমভাবে প্রয়োগ করা প্রয়োজন। গাছের প্রাথমিক বৃদ্ধির সময় ও ফুল আসার পর্যায়ে হালকা সেচ দিলে ফলন বৃদ্ধি পায়। তবে অতিরিক্ত পানি দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।
রোগ ও পোকামাকড় দমন
পাতা ঝলসানো রোগ, পচন রোগ ও বিভিন্ন পোকার আক্রমণ থেকে ফসল রক্ষায় নিয়মিত জমি পর্যবেক্ষণ জরুরি। প্রয়োজন অনুযায়ী কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শে অনুমোদিত কীটনাশক ব্যবহার করতে হবে।
ফসল সংগ্রহ ও সংরক্ষণ
বপনের প্রায় ৯০–১১০ দিনের মধ্যে বাদাম সংগ্রহ উপযোগী হয়। গাছ তুলে রোদে ভালোভাবে শুকিয়ে বাদাম সংরক্ষণ করলে দীর্ঘদিন ভালো থাকে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তার মতে, “বাদাম চাষে ঝুঁকি কম এবং লাভের সম্ভাবনা বেশি। সঠিক প্রযুক্তি ব্যবহার করলে কৃষকের আর্থিক অবস্থার উন্নয়ন সম্ভব।”
বাদাম চাষের প্রতি কৃষকদের এই আগ্রহ দেশের তেলবীজ উৎপাদন বৃদ্ধিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


