শুক্রবার, জানুয়ারি ১৬, ২০২৬

হাদির ওপর হামলা নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস

শেয়ার করুন

ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান বিন হাদি গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) জুমার নামাজের পর রাজধানীর বিজয়নগরের বক্স কালভার্ট এলাকায় তাকে গুলি করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় ওসমান হাদিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। এরপর তাকে  রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

এদিকে হাদির ওপর হামলা নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস করলেন সাবেক এক র‍্যাব সদস্য। তিনি জানান, আমি র‍্যাব ১০-এ যাত্রাবাড়িতে কাজ করেছি তিন বছর। তখন থেকেই আমি সোর্স মেন্টেইন করি। সোর্সরা আমাকে জানালো হাদির ভাইয়ের ওপর হামলা হতে পারে। আমি ভাইকে অফিসে গিয়ে বার বার বুঝানোর চেষ্টা করেছি। যখন দেখলাম তিনি বুঝতে চাচ্ছেন না আমি নিজে থেকে চিন্তা করলাম দুই দিন আমি তার সঙ্গেই থাকবো।

তিনি আরও জানান, শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) সকালে আমি উত্তরা থেকে আসি। মেট্রোরেল বন্ধ থাকায় লোকাল বাস করে আসতে আসতে দেরি হয়ে যায় আমার। আর আসতে আসতেই শুনি হাদি ভাইয়ের ওপর হামলা হয়েছে। 

এদিকে ওসমান হাদির অবস্থা নিয়ে আশার গল্প শোনানোর মতো পরিস্থিতি নেই বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. সায়েদুর রহমান। তিনি জানান, আগামী ৭২ ঘণ্টা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন হাদির শারীরিক অবস্থা পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য জানান তিনি।

ডা. সায়েদুর রহমান বলেন, বাম কানের ওপর দিয়ে ঢুকে ডান দিক দিয়ে বেরিয়ে যাওয়া বুলেট হাদির মস্তিষ্কের কাণ্ড বা ব্রেন স্টেম পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত করেছে, যা চিকিৎসাবিজ্ঞানে ‘ম্যাসিভ ব্রেন ইনজুরি’ হিসেবে বিবেচিত।

তিনি বলেন, হাদি এখন ‘খুবই ক্রিটিক্যাল’ অবস্থায় আছেন এবং আগামী ৭২ ঘণ্টা সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ। তাকে আপাতত কৃত্রিম শ্বাসপ্রশ্বাসে রাখা হয়েছে, যদিও চিকিৎসকেরা এখনো আশার কোনো নিশ্চয়তা দিতে পারছেন না।

ডা. সায়েদুর বলেন, গুলি বাম কানের ঠিক ওপর দিয়ে মাথায় প্রবেশ করে ডান দিক দিয়ে বেরিয়ে গেছে। এই গতিপথে মস্তিষ্কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ব্রেন স্টেম-এও ইনজুরি হয়েছে, যা জীবনরক্ষাকারী কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করে। এটা আমরা ম্যাসিভ ব্রেন ইনজুরি হিসেবে বিবেচনা করছি। এখন কোনো ধরনের ইন্টারভেনশন সম্ভব না। রোগীকে কেবল লাইফ সাপোর্টে ধরে রাখার চেষ্টা চলছে।

সাম্প্রতিক খবর

এই বিভাগের আরও খবর