বৃহস্পতিবার, জানুয়ারি ১৫, ২০২৬

শেখ হাসিনা বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আদেশ আজ

শেয়ার করুন

আওয়ামী লীগের দেড় দশকের শাসনামলে ডিজিএফআইয়ের জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেন্টারে (জেআইসি) গুম করে নির্যাতনের অভিযোগে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক–বর্তমান সেনা কর্মকর্তাসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের বিষয়ে আদেশ দেওয়ার দিন আজ।

রবিবার (১৪ ডিসেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১–এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেবেন।

মামলায় প্রসিকিউশন পক্ষ থেকে মোট পাঁচটি অভিযোগ আনা হয়েছে। ১৩ জন আসামির মধ্যে বর্তমানে তিনজন সেনা কর্মকর্তা গ্রেফতার রয়েছেন। গত ৯ নভেম্বর গ্রেফতার থাকা আসামিদের অব্যাহতি চেয়ে শুনানি করেন আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু। তিনি চারটি গ্রাউন্ড তুলে ধরে অব্যাহতির আবেদন জানান। এর মধ্যে বেআইনি আটক, অপহরণ ও নির্যাতন—এই তিনটি গ্রাউন্ড বিবেচনায় নেওয়ার কথা জানান ট্রাইব্যুনাল। অপর গ্রাউন্ডটি ছিল গুম সংক্রান্ত।

দুলুর শুনানি শেষে পলাতক আসামিদের পক্ষে ডিসচার্জ চেয়ে আবেদন করেন আইনজীবী হাসান ইমাম, আমির হোসেনসহ অন্যরা। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে অভিযোগ গঠনের বিষয়ে আদেশের জন্য আজকের দিন ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল।

ওই দিন প্রসিকিউশনের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম, শাইখ মাহদীসহ অন্যান্য প্রসিকিউটররা।

গ্রেফতার তিন সেনা কর্মকর্তা হলেন- ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক মেজর জেনারেল শেখ মো. সরওয়ার হোসেন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান সিদ্দিকী এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভির মাজাহার সিদ্দিকী।

শেখ হাসিনাসহ পলাতক অন্যান্য আসামিরা হলেন- শেখ হাসিনার প্রতিরক্ষা বিষয়ক সাবেক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, ডিজিএফআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ আকবর হোসেন, সাবেক ডিজি মেজর জেনারেল (অব.) সাইফুল আবেদিন, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. সাইফুল আলম, সাবেক ডিজি লেফটেন্যান্ট জেনারেল তাবরেজ শামস চৌধুরী, সাবেক ডিজি মেজর জেনারেল (অব.) হামিদুল হক, মেজর জেনারেল তৌহিদুল ইসলাম, মেজর জেনারেল কবির আহাম্মদ এবং লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মখসুরুল হক।

এর আগে, গত ৭ ডিসেম্বর অভিযোগ গঠনের ওপর শুনানিতে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম ট্রাইব্যুনালে জেআইসি সেলে সরকারবিরোধী ঘরানার লোকদের তুলে নিয়ে গুম ও নির্যাতনের ভয়াবহ বর্ণনা তুলে ধরেন। তিনি জানান, ২০১৫ সালের ২২ অক্টোবর থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত ২৬ জনকে গুম করা হয়েছে, যার নির্মমতা ও বীভৎসতার বিবরণ আদালতে উপস্থাপন করা হয়। এসব ঘটনায় পাঁচটি অভিযোগ এনে ১৩ আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠনের আবেদন করেন তিনি।

গত ২৩ নভেম্বর পলাতক আসামিদের পক্ষে স্টেট ডিফেন্স নিয়োগ দেন ট্রাইব্যুনাল। স্বেচ্ছায় মামলা পরিচালনার জন্য শেখ হাসিনার পক্ষে আইনজীবী হিসেবে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জেড আই খান পান্না দায়িত্ব নিলেও শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে ৩ ডিসেম্বর তা প্রত্যাহার করেন। পরে মো. আমির হোসেনকে শেখ হাসিনার আইনজীবী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

গত ২২ অক্টোবর সেনা হেফাজতে থাকা এ মামলার তিন সেনা কর্মকর্তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে তাদের গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে পলাতক আসামিদের হাজিরের জন্য সাত দিনের মধ্যে দুটি জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়।

উল্লেখ্য, গত ৮ অক্টোবর এ মামলায় ১৩ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন। পরে অভিযোগ আমলে নিয়ে ট্রাইব্যুনাল তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।

সাম্প্রতিক খবর

এই বিভাগের আরও খবর