শুক্রবার, জানুয়ারি ১৬, ২০২৬

বাঁধাকপি একটি লাভজনক ও চাহিদাসম্পন্ন ফসল

শেয়ার করুন

শীত মৌসুম শুরু হতেই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপকভাবে শুরু হয়েছে বাঁধাকপি চাষ। অনুকূল আবহাওয়া, উন্নত জাতের বীজ ও আধুনিক চাষপদ্ধতির ফলে এ বছর বাঁধাকপিতে ভালো ফলনের আশা করছেন কৃষকরা। কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, শীতকালীন সবজির মধ্যে বাঁধাকপি একটি লাভজনক ও চাহিদাসম্পন্ন ফসল।

কৃষকদের মতে, ১৫–২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বাঁধাকপি চাষের জন্য সবচেয়ে উপযোগী। সাধারণত সেপ্টেম্বর–অক্টোবর মাসে বীজতলায় চারা উৎপাদন করে অক্টোবর–নভেম্বরে জমিতে রোপণ করা হয়। মাত্র ৭০–৯০ দিনের মধ্যেই ফসল সংগ্রহ করা সম্ভব হওয়ায় কৃষকরা দ্রুত লাভের মুখ দেখেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা জানান, দোআঁশ ও বেলে-দোআঁশ মাটিতে সঠিক সার ও সেচ ব্যবস্থাপনায় প্রতি বিঘায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ফলন পাওয়া যায়। উন্নত জাত যেমন এটলাস-৭০, গ্রিন এক্সপ্রেস ও এগ্রো-১২ রোগ সহনশীল হওয়ায় চাষে ঝুঁকি কম।

তবে পোকামাকড় ও রোগবালাই নিয়ন্ত্রণে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। ডায়মন্ড ব্যাক মথ ও পাতাকৃমির আক্রমণ ঠেকাতে জৈব পদ্ধতি ও ফেরোমন ট্র্যাপ ব্যবহারের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

সব মিলিয়ে, সঠিক পরিকল্পনা ও পরিচর্যায় শীতকালীন বাঁধাকপি চাষ কৃষকের আয় বৃদ্ধি এবং দেশের সবজি উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

শীত কালে বাধাকপি চাষাবাদ

https://ais.gov.bd/sites/default/files/files/ais.portal.gov.bd/ekrishi/7623ab17_09e6_45ab_92b2_a6d25858e359/Cabbages.jpg?utm_source=chatgpt.com
https://i.ytimg.com/vi/UPk72G1CIt8/maxresdefault.jpg?utm_source=chatgpt.com
https://live.staticflickr.com/4426/35492428334_37024d69b8_b.jpg?utm_source=chatgpt.com

শীতকালে বাঁধাকপি চাষাবাদ (সংক্ষেপে পূর্ণ গাইড)

১) জলবায়ু ও সময়

  • উপযুক্ত তাপমাত্রা: ১৫–২৫°সে.
  • বপন সময়: সেপ্টেম্বর–অক্টোবর (চারা তৈরি)
  • রোপণ: অক্টোবর–নভেম্বর
  • ফসল তোলা: ডিসেম্বর–ফেব্রুয়ারি

২) মাটি

  • ধরণ: দোআঁশ/বেলে-দোআঁশ, পানি নিষ্কাশন ভালো
  • pH: ৬.০–৬.৮
  • জমি ৩–৪ বার চাষ করে ঝুরঝুরে করুন

৩) জাত নির্বাচন

  • উন্নত জাত: এটলাস-৭০, গ্রিন এক্সপ্রেস, প্রাইড অব ইন্ডিয়া, সম্রাট, এগ্রো-১২
  • রোগ সহনশীল ও বাজারযোগ্য জাত বেছে নিন

৪) চারা তৈরি

  • বীজতলায় বীজ ছিটিয়ে হালকা মাটি/কম্পোস্ট দিন
  • ২৫–৩০ দিনে ৪–৫ পাতা হলে চারা রোপণের উপযোগী

৫) রোপণ পদ্ধতি

  • দূরত্ব: সারি থেকে সারি ৬০ সেমি, গাছ থেকে গাছ ৪৫ সেমি
  • বিকালে রোপণ করলে চারা ভালোভাবে ধরে

৬) সার ব্যবস্থাপনা (প্রতি শতক)

  • পচা গোবর: ৩০–৪০ কেজি
  • ইউরিয়া: ৬০০–৭০০ গ্রাম
  • টিএসপি: ৪০০–৫০০ গ্রাম
  • এমওপি: ৩০০–৪০০ গ্রাম

৭) সেচ ও আগাছা

  • রোপণের পর হালকা সেচ
  • ৭–১০ দিন পরপর প্রয়োজন অনুযায়ী সেচ
  • ২–৩ বার নিড়ানি/আগাছা দমন

৮) রোগ ও পোকা দমন

  • পোকা: ডায়মন্ড ব্যাক মথ, পাতা কৃমি → ফেরোমন ট্র্যাপ/জৈব কীটনাশক
  • রোগ: ডাউনি মিলডিউ, কালো পচা → রোগমুক্ত চারা, সঠিক নিষ্কাশন, প্রয়োজনে অনুমোদিত ছত্রাকনাশক

৯) ফসল সংগ্রহ

  • মাথা শক্ত ও পূর্ণ হলে কাটুন
  • দেরি করলে ফাটতে পারে—সময়ে সংগ্রহ জরুরি

সাম্প্রতিক খবর

এই বিভাগের আরও খবর