নিজস্ব প্রতিবেদক:
দেশের কৃষিখাতে নতুন সম্ভাবনা হিসেবে উঠে আসছে আতা ফলের ব্যবসায়িক চাষ। কম খরচ, কম পরিচর্যা এবং তুলনামূলক বেশি লাভের কারণে কৃষক ও উদ্যোক্তাদের আগ্রহ বাড়ছে এই ফলের প্রতি।
কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, উষ্ণ ও মাঝারি শুষ্ক জলবায়ু আতা চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। দোআঁশ বা বেলে দোআঁশ মাটিতে আতা ভালো জন্মে এবং অন্যান্য ফলের তুলনায় রোগবালাইও কম হয়। কলম বা উন্নত জাতের চারা রোপণের ২–৩ বছরের মধ্যেই গাছে ফল ধরতে শুরু করে, যা কৃষকদের জন্য দ্রুত আয়ের সুযোগ সৃষ্টি করে।
এক একর জমিতে আতা বাগান করলে পূর্ণ ফলনের সময় বছরে ৪–৬ টন ফল পাওয়া যায়। মৌসুমভেদে বাজারে এর দাম ভালো থাকায় কৃষকরা বছরে কয়েক লাখ টাকা পর্যন্ত আয় করতে পারছেন। তাছাড়া তাজা ফলের পাশাপাশি আতা পাল্প, জুস ও আইসক্রিম তৈরির মাধ্যমে মূল্য সংযোজনের সুযোগ থাকায় এর বাজার আরও সম্প্রসারিত হচ্ছে।
তবে দ্রুত নরম হয়ে যাওয়া ফল সংরক্ষণ ও পরিবহনের ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ তৈরি করে। এ জন্য উন্নত সংগ্রহ, প্যাকেজিং ও বাজার ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। সব মিলিয়ে, সঠিক পরিকল্পনা ও আধুনিক ব্যবস্থাপনায় আতা ফলের ব্যবসায়িক চাষ দেশের কৃষিতে লাভজনক ও সম্ভাবনাময় উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
আতা ফল ব্যবসায়িক ভিত্তিতে চাষ করার সুযোগ কেমন



চাষের সম্ভাবনা ও সুবিধা
- জলবায়ু উপযোগী: গরম ও মাঝারি শুষ্ক আবহাওয়ায় ভালো ফলন।
- কম পরিচর্যায় ফলন: তুলনামূলক কম সার ও পানিতে চলে।
- রোগবালাই কম: অন্যান্য ফলের তুলনায় ঝুঁকি কম।
- দ্রুত ফলন: কলম/চারা লাগালে ২–৩ বছরের মধ্যেই ফল আসে।
- বাজার চাহিদা বাড়ছে: শহর ও স্বাস্থ্যসচেতন ভোক্তাদের কাছে জনপ্রিয়।
খরচ ও লাভ (আনুমানিক)
১ একর জমিতে
- চারা সংখ্যা: ২০০–২৫০টি
- প্রাথমিক খরচ (চারা, গর্ত, সার, শ্রম): ৬০–৮০ হাজার টাকা
- ফলন শুরু: ২য়–৩য় বছর
- পূর্ণ ফলনে (৪র্থ বছর থেকে):
- ফলন: ৪–৬ টন
- পাইকারি দাম: ৮০–১৫০ টাকা/কেজি (মৌসুম ও এলাকাভেদে)
- সম্ভাব্য বিক্রি: ৩–৭ লাখ টাকা/বছর
- নিট লাভ: ২–৫ লাখ টাকা পর্যন্ত হতে পারে
ব্যবসায়িক সুযোগ বাড়ানোর উপায়
- উন্নত জাত (Balanagar, Arka Sahan ইত্যাদি) ব্যবহার
- অফ-সিজন উৎপাদন (হালকা ছাঁটাই ও সেচ ব্যবস্থাপনা)
- মূল্য সংযোজন: পাল্প, আইসক্রিম, জুস, ডেজার্ট
- স্থানীয় বাজার + অনলাইন বিক্রি
- চুক্তিভিত্তিক বিক্রি (হোটেল/রেস্তোরাঁ)
চ্যালেঞ্জ
- ফল দ্রুত নরম হয় → সংরক্ষণ ও পরিবহন সতর্কতা দরকার
- মৌসুমি দাম ওঠানামা
- মানসম্মত চারা না পেলে ফলন কমে
কার জন্য বেশি উপযোগী
- ছোট ও মাঝারি কৃষক
- অনাবাদি/উঁচু জমির মালিক
- নতুন ফল চাষে আগ্রহী উদ্যোক্তা


