নিজস্ব প্রতিবেদক │
ধানের পাশাপাশি বিকল্প ফসল হিসেবে কৃষি জমিতে ভুট্টা চাষে কৃষকদের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। কম খরচে অধিক ফলন, বাজারে স্থিতিশীল চাহিদা এবং তুলনামূলক কম ঝুঁকির কারণে ভুট্টা এখন অনেক কৃষকের পছন্দের ফসল হয়ে উঠেছে।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিভিন্ন জেলায় রবি ও খরিফ—উভয় মৌসুমেই ভুট্টার আবাদ বেড়েছে। বিশেষ করে দোআঁশ ও বেলে-দোআঁশ মাটিতে ভুট্টা ভালো ফলন দেয়। এক বিঘা জমিতে ভুট্টা চাষে খরচ তুলনামূলক কম হলেও ফলন পাওয়া যায় ৮–১০ মণ পর্যন্ত, যা কৃষকদের আর্থিকভাবে লাভবান করছে।
স্থানীয় এক কৃষক মিজান মোল্লা জানান,
“আগে শুধু ধান চাষ করতাম। এখন ভুট্টা চাষ করে ভালো লাভ পাচ্ছি। সেচ ও সার কম লাগে, রোগবালাইও তুলনামূলক কম।”
কৃষি কর্মকর্তারা জানান, ভুট্টা খাদ্যশস্য হিসেবে ব্যবহারের পাশাপাশি হাঁস-মুরগির খাদ্য ও পশুখাদ্য তৈরিতে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। ফলে বাজারে এর চাহিদা সব সময়ই থাকে। সরকারিভাবে উন্নত জাতের বীজ, সার ও পরামর্শ দেওয়ায় কৃষকরা ভুট্টা চাষে আরও উৎসাহিত হচ্ছেন।
তবে কিছু কৃষক অভিযোগ করেছেন, মৌসুমের শুরুতে ভালো দাম পাওয়া গেলেও একসঙ্গে বেশি উৎপাদন হলে দাম কিছুটা কমে যায়। এ বিষয়ে কৃষি বিশেষজ্ঞরা সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ সুবিধা বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছেন।
সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, পরিকল্পিতভাবে ভুট্টা চাষ সম্প্রসারণ করা গেলে কৃষকের আয় বাড়বে এবং দেশের খাদ্য ও পশুখাদ্যের চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।


