দেশে প্রাণিজ আমিষের অন্যতম সহজলভ্য উৎস হিসেবে ডিমের গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে। পুষ্টিবিদদের মতে, স্বল্পমূল্যে উচ্চ পুষ্টিমানসম্পন্ন খাদ্য হওয়ায় ডিম সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করেছে। এই চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেশে ডিম উৎপাদনও গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতি
বর্তমানে দেশে বাণিজ্যিক ও খামারভিত্তিক ডিম উৎপাদন দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। গ্রাম ও শহর—উভয় এলাকাতেই ছোট ও মাঝারি আকারের পোলট্রি খামার গড়ে উঠেছে। সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে আধুনিক খামার ব্যবস্থাপনা, উন্নত জাতের লেয়ার মুরগি এবং উন্নত খাবার ব্যবস্থার ফলে উৎপাদন সক্ষমতা বেড়েছে।
তবে উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি খামারিরা নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছেন। মুরগির খাদ্যের দাম বৃদ্ধি, রোগবালাই, ওষুধ ও টিকার উচ্চমূল্য এবং বাজারে দামের অস্থিরতা খামারিদের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক সময় উৎপাদন খরচের তুলনায় বাজারমূল্য কম থাকায় খামারিরা লোকসানের শিকার হচ্ছেন।
বাজার ও ভোক্তা পরিস্থিতি
ডিমের চাহিদা সারা বছরই তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল থাকলেও রমজান, শীতকাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা থাকার সময় চাহিদা বাড়ে। অন্যদিকে, অতিরিক্ত উৎপাদনের সময়ে বাজারে ডিমের দাম কমে যায়, যা খামারিদের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক পরিকল্পনা ও সহায়তা পেলে দেশের ডিম উৎপাদন খাত আরও সমৃদ্ধ হতে পারে। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, খামারিদের প্রশিক্ষণ, স্বল্পসুদে ঋণ সুবিধা এবং খাদ্য ও ওষুধের বাজার স্থিতিশীল রাখা গেলে উৎপাদন যেমন বাড়বে, তেমনি খামারিরাও লাভবান হবেন।
এ ছাড়া প্রক্রিয়াজাত ডিমজাত পণ্য (যেমন: ডিমের গুঁড়া, তরল ডিম) উৎপাদন ও রপ্তানির সম্ভাবনাও উজ্জ্বল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, ডিম উৎপাদন খাত দেশের পুষ্টি নিরাপত্তা ও অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিদ্যমান সমস্যাগুলো সমাধানে কার্যকর নীতি ও সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা গেলে ভবিষ্যতে দেশ ডিম উৎপাদনে আরও স্বয়ংসম্পূর্ণ ও শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছাতে পারবে।


