শুক্রবার, জানুয়ারি ১৬, ২০২৬

উচ্চ ফলন শাকাহারী ফসল মুগ ডাল: কৃষকের লাভ ও চাষ পদ্ধতি

শেয়ার করুন

বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল ও বিভিন্ন অঞ্চলে মুগ ডাল চাষ দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। বিশেষত পটুয়াখালী, ভোলা ও পাবনা এলাকায় কৃষকরা উচ্চ ফলনশীল জাতের মুগ ডাল লাগিয়ে ভালো আয়ের পথ দেখছেন। ফলনের স্বল্প খরচ, কম সময় লাগা এবং বাজারে ভালো দাম পাওয়ার সুযোগ মুগ ডালকে অর্থকরী ফসল হিসেবে দাঁড় করিয়েছে।

আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা বাড়ছে:
পটুয়াখালীতে উৎপাদিত মুগ ডাল জাপান, অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়া সহ বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হচ্ছে, যা রপ্তানি আয় বাড়াতে সহায়তা করছে।

মুগ ডাল চাষের মূল পদ্ধতি (কৃষি গাইড)

জমি ও পানি

  • মাটির ধরন: বেলে দো-আঁশ বা পলি দো-আঁশ মাটি সবচেয়ে উপযোগী এবং সুনিষ্কাশিত জমি ভালো ফলন দেয়।
  • পিএইচ: ৬.০-৭.৫পিএইচ ভালো ফলন দেয়।
  • বৃষ্টি নির্ভর ফসল, অতিরিক্ত জলাবদ্ধতা ক্ষতিকারক।

বুনন (সজীব সময় ও পদ্ধতি)

  • সঠিক সময়: খরিফ মৌসুমে জুনের শেষ থেকে জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহ।
  • বীজ বিঁজ: ৫-৬ সেমি গভীরে সঠিকভাবে বপন করা।
  • সার ব্যবস্থাপনা: পটাশ ও ফসফরাস মূল সার হিসেবে প্রয়োগ করা। মুগ রাইজোবিয়াম ব্যাকটেরিয়া দিয়ে বীজ টিট্রি করলে জমির নাইট্রোজেন ধরে রাখে ও ফলন বাড়ে।

পরিচর্যা (আশেপাশ মানেজমেন্ট)

  • আগাছা নিয়ন্ত্রণ: হাত দিয়ে আগাছা পরিষ্কার করলে ফলন ভালো হয়।
  • পর্যাপ্ত আলো ও বায়ু চলাচল রাখতে সারি সারি ধরায় বীজ লাগানো উচিত।

রোগ-পোকা ও রোগ নিয়ন্ত্রণ

  • সাধারণ রোগ: পাতার দাগ, পাউডারী মিলডিউ ইত্যাদি কিছু ছত্রাকজনিত রোগে ছত্রাকনাশক প্রয়োগ করা যেতে পারে।

ফসল কাটা ও বজায় রাখা

মুগ ডাল প্রায় ৬০–৭৫ দিন পরে কাটা যায় এবং যখন ঝড়ার পর টুটে যায় তখন সংগ্রহ করা হয়। উৎপাদনের পর শস্য শুকিয়ে ভালোভাবে সংরক্ষণ করা গুরুত্বপূর্ণ।

মোট কথা:
মুগ ডাল চাষ বাংলাদেশের কৃষকদের জন্য আর্থিক সুযোগ ও উচ্চ চাহিদা সম্পন্ন ফসল হয়ে দাঁড়াচ্ছে। সঠিক সময় বপন, উপযুক্ত জমি নির্বাচন ও ভালো পরিচর্যা করলে প্রচুর লাভ ও মানসম্মত উৎপাদন পাওয়া সম্ভব।

সাম্প্রতিক খবর

এই বিভাগের আরও খবর