শুক্রবার, জানুয়ারি ১৬, ২০২৬

চিংড়ি চাষে সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত, রপ্তানি আয়ে গতি ফেরার আশা

শেয়ার করুন

দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে চিংড়ি চাষ আবারও অর্থনৈতিক সম্ভাবনার আলো জ্বালাচ্ছে। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, উন্নত পোনা সরবরাহ এবং রোগ ব্যবস্থাপনায় সচেতনতা বৃদ্ধির ফলে চলতি মৌসুমে চিংড়ি উৎপাদনে ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সঠিক পরিকল্পনা ও সরকারি সহায়তা অব্যাহত থাকলে আগামীতে রপ্তানি আয়ে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখবে এই খাত।

খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট জেলার ঘেরগুলোতে বর্তমানে বাগদা ও ভেনামি চিংড়ির চাষ বাড়ছে। চাষিরা জানান, আগের তুলনায় এখন বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে পানি ব্যবস্থাপনা, খাবার প্রয়োগ এবং রোগ নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। এতে উৎপাদন খরচ কিছুটা বাড়লেও লাভের সম্ভাবনা বেড়েছে।

স্থানীয় এক চাষি বলেন, “আগে রোগ হলে পুরো ঘের নষ্ট হয়ে যেত। এখন নিয়ম মেনে চাষ করায় ক্ষতি কম হচ্ছে। বাজারে দামও ভালো পাওয়া যাচ্ছে।”

মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চিংড়ি বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান রপ্তানি পণ্য। তবে অতীতে রোগবালাই, জলবায়ু পরিবর্তন ও আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতার কারণে এই খাতে ধাক্কা লাগে। বর্তমানে প্রশিক্ষণ, মান নিয়ন্ত্রণ এবং পরিবেশবান্ধব চাষ পদ্ধতির ওপর জোর দেওয়ায় পরিস্থিতি ধীরে ধীরে উন্নতির দিকে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, চিংড়ি চাষে টেকসই উন্নয়নের জন্য পরিবেশ সংরক্ষণ, মানসম্মত হ্যাচারি, এবং রপ্তানিযোগ্য পণ্যের গুণগত মান নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে চাষিদের সহজ শর্তে ঋণ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দিলে এই খাত আরও শক্তিশালী হবে।

সব মিলিয়ে, চিংড়ি চাষ ঘিরে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। সঠিক দিকনির্দেশনা ও সমন্বিত উদ্যোগ থাকলে দেশের অর্থনীতিতে আবারও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে ‘সাদা সোনা’ খ্যাত এই পণ্য।

সাম্প্রতিক খবর

এই বিভাগের আরও খবর