বৃহস্পতিবার, জানুয়ারি ১৫, ২০২৬

গানের ভেতরেই বেঁচে আছেন সঞ্জীব চৌধুরী

শেয়ার করুন

বাংলা সংগীত ও সংস্কৃতির জগতে এক ব্যতিক্রমী ও কালজয়ী নাম সঞ্জীব চৌধুরী। গত বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) ছিলো এই ক্ষণজন্মা শিল্পীর জন্মদিন। যিনি গানকে নিছক বিনোদনের গণ্ডি থেকে বের করে এনেছিলেন এবং তাকে রূপ দিয়েছিলেন প্রতিবাদ, প্রেম ও মানবিক বিবেকের এক শক্তিশালী ভাষায়। বহুমাত্রিক প্রতিভার অধিকারী এই মানুষটি আজও তাঁর কথা, সুর এবং জীবনদর্শনের মধ্য দিয়ে কোটি শ্রোতার হৃদয়ে অমলিন হয়ে আছেন।

১৯৬৪ সালের ২৫ ডিসেম্বর হবিগঞ্জের মাকালকান্দিতে জন্ম নেওয়া সঞ্জীব চৌধুরী ছিলেন একাধারে কবি, সাংবাদিক, গায়ক, গীতিকার ও রাজনৈতিক কর্মী। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি অত্যন্ত মেধাবী ছিলেন এবং তাঁর রাজনৈতিক সচেতনতা ছিল প্রখর। ঢাকা কলেজে পড়ার সময় ছাত্র ইউনিয়নের মাধ্যমে সাম্যবাদী রাজনীতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে পড়া এই শিল্পী তাঁর গানে সবসময়ই সাধারণ মানুষের কথা ও সমাজের অসংগতির চিত্র তুলে ধরেছেন। ঢাকার পথে পথে গিটার কাঁধে ঘুরে বেড়ানো এই মানুষটি কখনোই অর্থ-বিত্ত বা বাণিজ্যিক খ্যাতির মোহে পড়েননি; বরং তাঁর সুর ছিল শোষণের বিরুদ্ধে এক বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর।

মাত্র ৪৩ বছরের সংক্ষিপ্ত জীবনে সঞ্জীব চৌধুরী বাংলা সংগীতকে দিয়েছেন অসংখ্য কালজয়ী সৃষ্টি। ‘আমি তোমাকেই বলে দেব’, ‘কিংবদন্তি’, ‘বায়োস্কোপ’, ‘নৌকাভ্রমণ’, ‘কালা পাখি’ কিংবা ‘জোছনাবিহার’-এর মতো গানগুলো আজও প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে শ্রোতাদের আন্দোলিত করে। তাঁর গানে যেমন ফুটে উঠেছে গভীর প্রেম, তেমনি ‘ইয়াসমিন’ বা ‘চল বুবাইজান’-এর মতো গানে উঠে এসেছে তীব্র সামাজিক প্রতিবাদ।

একজন মানুষের গান যেখানে সময়ের সাথে ফিকে হয়ে যায়, সেখানে সঞ্জীব চৌধুরীর প্রতিটি সৃষ্টি আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক ও শক্তিশালী। তিনি কেবল একজন শিল্পীই ছিলেন না, তিনি ছিলেন একটি সময়ের সাক্ষী এবং একটি প্রজন্মের অনুভূতির প্রতিচ্ছবি। তাঁর জন্মদিনে সংগীতানুরাগীরা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে এই মহান শিল্পীকে স্মরণ করছেন, যিনি তাঁর গানের ভেতরেই অমর হয়ে আছেন।

সাম্প্রতিক খবর

এই বিভাগের আরও খবর