বৃহস্পতিবার, জানুয়ারি ১৫, ২০২৬

লাভজনক হওয়ায় বিদেশি ফলের আবাদে ঝুঁকছেন কৃষকরা

শেয়ার করুন

দেশীয় ফলের পাশাপাশি এখন বিদেশি ফল চাষে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের মধ্যে। অধিক লাভ, বাজারে উচ্চ চাহিদা এবং তুলনামূলক কম সময়ে ফলন পাওয়ার সম্ভাবনায় বিদেশি ফলের আবাদে ঝুঁকছেন তারা। ড্রাগন ফল, মাল্টা, থাই পেয়ারা, অ্যাভোকাডো, কিউই ও ব্লুবেরির মতো ফল এখন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পরীক্ষামূলক ও বাণিজ্যিকভাবে চাষ হচ্ছে।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এসব ফলের চাহিদা শহরাঞ্চলে দ্রুত বেড়েছে। সুপারশপ, হোটেল ও অনলাইন বাজারে বিদেশি ফলের দাম তুলনামূলক বেশি হওয়ায় কৃষকরা ভালো মুনাফার আশা করছেন। এক একর জমিতে ড্রাগন ফল চাষ করে যেখানে কয়েক গুণ বেশি লাভ সম্ভব, সেখানে অনেক কৃষক ধান বা প্রচলিত ফসলের পরিবর্তে এ ধরনের ফলের দিকে ঝুঁকছেন।

মাদারীপুর সদর উপজেলার স্থানীয় কৃষক আবদুল করিম বলেন, “আগে ধান চাষ করতাম। খরচের তুলনায় লাভ কম হতো। এখন ড্রাগন ফল লাগিয়েছি, প্রথম বছরেই ভালো ফলন পেয়েছি। বাজারে দামও ভালো।” একই মত প্রকাশ করেন আরেক কৃষক রাশেদা বেগম। তিনি জানান, বিদেশি ফল চাষে শুরুতে কিছুটা ঝুঁকি থাকলেও সঠিক পরামর্শ ও পরিচর্যায় লাভের সম্ভাবনা অনেক বেশি।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, সরকারিভাবে প্রশিক্ষণ, চারা সরবরাহ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। এতে কৃষকরা নতুন জাতের ফল চাষে উৎসাহিত হচ্ছেন। তবে তারা সতর্ক করে বলেন, মাটি ও জলবায়ু উপযোগী ফল নির্বাচন এবং বাজার ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা জরুরি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদেশি ফলের আবাদ বাড়লে একদিকে যেমন কৃষকের আয় বাড়বে, অন্যদিকে ফল আমদানির ওপর নির্ভরতা কমবে। তবে পরিকল্পিত চাষ ও গবেষণা ছাড়া ব্যাপকভাবে আবাদ করলে ক্ষতির আশঙ্কাও রয়েছে।

সব মিলিয়ে লাভের আশায় বিদেশি ফল চাষ এখন দেশের কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিচ্ছে।

সাম্প্রতিক খবর

এই বিভাগের আরও খবর