ফরিদপুর, ৩১ ডিসেম্বরপ্রতিবেদন: নিজস্ব প্রতিবেদক
শীতের হালকা কুয়াশা আর ভোরের ঠান্ডা হাওয়ার সঙ্গে গ্রামবাংলায় ফিরে এসেছে ঐতিহ্যবাহী খেজুরের রসের মৌসুম। ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি—এই কয়েক মাসেই ভোরের আলো ফোটার আগেই গাছ থেকে নামানো হয় মিষ্টি খেজুরের রস। গ্রামাঞ্চলের হাটবাজারে এখন রসের হাঁড়ি হাতে ভিড় করছেন ক্রেতারা।
স্থানীয় গাছিরা জানান, প্রতিদিন ভোরে গাছ কাটা ও হাঁড়ি নামানোর কাজ শুরু হয়। একটি গাছ থেকে দিনে গড়ে এক থেকে দেড় লিটার রস পাওয়া যায়। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে রসের স্বাদ ও ঘনত্ব বাড়ে। ফরিদপুরের গাছি মফিজ উদ্দিন বলেন, “শীত যত বাড়ে, রস তত মিষ্টি হয়। এই সময়টাই আমাদের সারা বছরের ভরসা।”
খেজুরের রস শুধু পানীয় হিসেবেই নয়, পাটালি ও নলেন গুড় তৈরির প্রধান উপকরণ হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। জেলার বিভিন্ন গুড় কারখানায় এখন ব্যস্ততা বেড়েছে। ব্যবসায়ীদের মতে, এ বছর চাহিদা ভালো থাকলেও শ্রমিক সংকট ও জ্বালানির দাম বাড়ায় উৎপাদন খরচ কিছুটা বেড়েছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা খেজুরের রস খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন। তারা বলেন, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নভাবে সংগ্রহ করা রস নিরাপদ; খোলা অবস্থায় রাখা রস না খাওয়াই ভালো। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো হচ্ছে।
সব মিলিয়ে শীতের সকালে ধোঁয়া ওঠা রসের হাঁড়ি, নলেন গুড়ের ঘ্রাণ আর গ্রামবাংলার ব্যস্ততা—খেজুরের রস ঘিরে আবারও প্রাণ ফিরে পেয়েছে গ্রামীণ অর্থনীতি ও ঐতিহ্য।


