বৃহস্পতিবার, জানুয়ারি ১৫, ২০২৬

আখ চাষে নতুন আশা লাল চিনি।

শেয়ার করুন

খরার চাপ, উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি ও বাজার অনিশ্চয়তার মধ্যেও আখ চাষে ফিরছে আশার আলো। উন্নত জাত, আধুনিক চাষপদ্ধতি এবং সরকারি সহায়তায় অনেক অঞ্চলে আখের ফলন ও লাভ—দুটিই বাড়ছে বলে জানাচ্ছেন কৃষক ও কৃষি বিশেষজ্ঞরা।

কৃষি দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে উচ্চ ফলনশীল ও রোগ-সহনশীল আখের জাত ব্যাপকভাবে গ্রহণ করেছেন চাষিরা। এই জাতগুলোতে শর্করার হার বেশি হওয়ায় চিনিকলে গ্রহণযোগ্যতা বাড়ছে, ফলে ন্যায্য দামের সম্ভাবনাও তৈরি হচ্ছে।

প্রযুক্তিতে বদল
ড্রিপ সেচ, মাটি পরীক্ষা-ভিত্তিক সার প্রয়োগ এবং সময়মতো রোগ-পোকা দমন—এই তিনটি প্রযুক্তি আখ চাষে বড় পরিবর্তন এনেছে। কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্রগুলির প্রশিক্ষণে অংশ নিয়ে অনেক চাষি খরচ কমিয়ে ফলন বাড়াতে পেরেছেন। ড্রিপ সেচে জল সাশ্রয় ৩০–৪০ শতাংশ পর্যন্ত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

চিনিকল ও বাজার
এ বছর একাধিক চিনিকল আগাম চুক্তি ও সময়মতো আখ তোলার আশ্বাস দেওয়ায় চাষিদের আস্থা বেড়েছে। পাশাপাশি, গুড় ও জৈব চিনি উৎপাদনের দিকে ঝুঁকছেন অনেকে, যা স্থানীয় বাজারে বাড়তি আয় দিচ্ছে।

চাষির কণ্ঠে আশা
নদীয়া জেলার আখচাষি রমেশ দাস বলেন, “নতুন জাত আর ড্রিপ সেচে ফলন বেড়েছে। খরচ কমেছে, চিনিকল থেকেও টাকা সময়মতো পাওয়ার আশা করছি।” একই সুর শোনা যাচ্ছে উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্তে।

চ্যালেঞ্জ এখনও আছে
তবে শ্রমিক সংকট, আবহাওয়ার অনিশ্চয়তা এবং কিছু এলাকায় রোগের প্রকোপ—এই সমস্যাগুলি পুরোপুরি কাটেনি। বিশেষজ্ঞদের মতে, সমবায়ভিত্তিক চাষ, যান্ত্রিক হারভেস্টার এবং বিমা কাভারেজ বাড়ালে ঝুঁকি আরও কমানো সম্ভব।


সব মিলিয়ে আখ চাষে ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত স্পষ্ট। বিজ্ঞানসম্মত চাষ, বাজার সংযোগ ও নীতিগত সহায়তা অব্যাহত থাকলে আখ আবারও হতে পারে গ্রামীণ অর্থনীতির শক্ত ভিত—এই বিশ্বাসেই এগোচ্ছেন চাষিরা।

সাম্প্রতিক খবর

এই বিভাগের আরও খবর