দক্ষিণী সুপারস্টার প্রভাসের ক্যারিয়ারে ‘বাহুবলী-২’-এর পর যেন আর সাফল্যের দেখা মিলছে না। ‘সাহো’, ‘রাধে শ্যাম’ এবং ‘আদিপুরুষ’-এর মতো বিগ বাজেটের সিনেমাগুলো বক্স অফিসে আশানুরূপ ফল করতে ব্যর্থ হওয়ায় প্রভাসের তারকাখ্যাতি নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। ব্যর্থতার এই বৃত্ত ভাঙতে এবার তিনি ভরসা রেখেছিলেন পরিচালক মারুতির হরর-কমেডি ঘরানার সিনেমা ‘দ্য রাজাসাব’-এর ওপর। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই আশাও পূরণ হলো না। গত শুক্রবার সিনেমাটি মুক্তি পাওয়ার পর প্রথম সপ্তাহেই বক্স অফিসে বড় ধরনের ধস নেমেছে।
গত ৯ জানুয়ারি সিনেমাটি মুক্তির দিনে দর্শকদের মাঝে ব্যাপক উন্মাদনা দেখা গিয়েছিল। এমনকি প্রেক্ষাগৃহে প্রবেশের সময় ভক্তদের ভিড়ে প্রধান ফটক ভেঙে পড়ার ঘটনাও ঘটেছিল। মুক্তির প্রথম দিনেই বিশ্বজুড়ে ১০০ কোটি টাকার রেকর্ড ওপেনিং দিয়ে সিনেমাটি ভালো কিছুর ইঙ্গিত দিলেও মাত্র সাত দিনের ব্যবধানে সেই চিত্র পুরোপুরি বদলে গেছে। সপ্তাহ শেষে দেখা যাচ্ছে, সিনেমাটির প্রতি দর্শকদের আগ্রহ দ্রুত কমে গেছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রথম সপ্তাহ শেষে বিশ্বজুড়ে সিনেমাটির মোট গ্রস কালেকশন দাঁড়িয়েছে মাত্র ১৯১ কোটি রুপি। অর্থাৎ, প্রথম দিনের ১০০ কোটি বাদ দিলে বাকি ছয় দিনে সিনেমাটি আয় করেছে মাত্র ৯১ কোটি রুপি। বিশেষ করে ভারতের বাজারে গত বৃহস্পতিবার সিনেমাটির নেট আয় ছিল মাত্র ৫ দশমিক ৬৫ কোটি রুপি, যা একটি বড় বাজেটের সিনেমার জন্য হতাশাজনক। সব মিলিয়ে ভারতে এখন পর্যন্ত সিনেমাটির মোট নেট সংগ্রহ দাঁড়িয়েছে ১৩০ দশমিক ৪০ কোটি রুপি।
তুলনামূলক বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রভাসের আগের ফ্লপ বা ব্যর্থ সিনেমাগুলোর চেয়েও খারাপ পারফর্ম করছে ‘দ্য রাজা সাব’। পরিসংখ্যান বলছে, তীব্র সমালোচনার মুখে পড়া ‘আদিপুরুষ’ ও ‘সাহো’ সিনেমা দুটিও তাদের প্রথম সপ্তাহে ৩০০ কোটি রুপির বেশি আয় করতে সক্ষম হয়েছিল। সেই তুলনায় ‘দ্য রাজা সাব’ প্রায় ১১০ কোটি রুপি পিছিয়ে রয়েছে। এতেই বোঝা যায়, প্রভাসের এই নতুন প্রজেক্টটি দর্শকদের হলমুখী করতে ব্যর্থ হয়েছে।
সিনেমাটিতে প্রভাসের পাশাপাশি অভিনয় করেছেন সঞ্জয় দত্ত, মালবিকা মোহনন, নিধি আগরওয়াল ও বোমান ইরানির মতো একঝাঁক তারকা। এত বড় কাস্টিং এবং জনপ্রিয় ঘরানার গল্প হওয়া সত্ত্বেও বক্স অফিসে প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারায় সিনেমাটি এখন ব্যর্থতার তালিকায় নাম লেখাতে যাচ্ছে বলেই মনে করছেন চলচ্চিত্র বিশ্লেষকরা। প্রভাসের ক্যারিয়ারের এই ধারাবাহিক ব্যর্থতা তার ভবিষ্যৎ প্রজেক্টগুলোর ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।


