মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার আড়িয়ল বিলে উৎপাদিত বড় আকৃতির মিষ্টি কুমড়ার চাহিদা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ক্রমেই বাড়ছে। অন্যান্য এলাকার তুলনায় আড়িয়ল বিলের কুমড়া আকারে বড় ও স্বাদে মিষ্টি হওয়ায় এটি ‘চৈতালি কুমড়া’ নামে পরিচিত। গোল ও লম্বাটে আকৃতির এসব কুমড়ার ওজন অনেক ক্ষেত্রে ৮০ কেজিরও বেশি হয়ে থাকে।
বর্তমানে আড়িয়ল বিলে এই বিশেষ জাতের মিষ্টি কুমড়ার ভরা মৌসুম চলছে। স্থানীয় কৃষকেরা বড় আকারের কুমড়া বাজারজাত শুরু করেছেন। প্রতিদিন হাজার হাজার কুমড়া মাঠ থেকে তুলে আনা হচ্ছে। এর মধ্যে ১৫ থেকে ৪০ কেজি ওজনের কুমড়ার সংখ্যাই বেশি। স্থানীয় পাইকাররা মাঠ থেকেই স্তুপ আকারে কুমড়া চুক্তিতে কিনে নিচ্ছেন। চুক্তিভিত্তিক বিক্রিতে প্রতি কেজি কুমড়ার দাম ধরা হচ্ছে ১৮ থেকে ২০ টাকা। আর খোলা বাজারে প্রকারভেদে প্রতি কেজি কুমড়া বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৪৫ টাকায়।
তবে বহুল পরিচিত এই মিষ্টি কুমড়া এখনো ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পায়নি।
সরেজমিনে দেখা গেছে, কুমড়া তুলে মাথায় করে সড়কের পাশে স্তুপ করে রাখা হচ্ছে। আড়িয়ল বিলের গভীরে থাকা অসংখ্য ভিটার কুমড়া ট্রলারে করে এনে গাদিঘাট বাজারসংলগ্ন সেতুর সামনে নোঙর করা হচ্ছে। পাইকারদের সঙ্গে দরদাম চূড়ান্ত হলে এসব কুমড়া ট্রাকে করে ঢাকার কারওয়ান বাজারসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হচ্ছে বলে জানান কৃষকেরা।
স্থানীয় কৃষকেরা জানান, চলতি বছরও শ্বেতি রোগ (মোজাইক ভাইরাস) আক্রমণের কারণে কুমড়ার ফলন কম হয়েছে। গত ছয়–সাত বছর ধরে এ রোগের কারণে কাঙ্ক্ষিত উৎপাদন পাওয়া যাচ্ছে না। শ্বেতি রোগে আক্রান্ত হলে কুমড়ার আকারও তুলনামূলকভাবে ছোট হয়ে যায়। আশানুরূপ ফলন ও ন্যায্যমূল্য পেলে এ জাতের কুমড়া চাষে আরও বেশি লাভবান হওয়া সম্ভব বলে মনে করেন তারা।
গাদিঘাট এলাকার কৃষকেরা জানান, প্রতিবছর নিজেদের সংরক্ষিত বীজ থেকেই তারা এই বিশেষ জাতের কুমড়ার চাষ করেন। তবে রোগবালাই ও বৈরী আবহাওয়ার প্রভাবে ফলন কমে যাচ্ছে। কৃষকদের দাবি, সরকারিভাবে উৎপাদন ও বাজারজাতকরণে সহায়তা বাড়ানো হলে কুমড়ার উৎপাদন বাড়বে এবং কৃষকেরা ন্যায্যমূল্য পাবেন।
শ্রীনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ বিন সাদেক বলেন, রোগাক্রান্ত বীজ থেকেই মূলত কুমড়ার জমিতে শ্বেতি (মোজাইক ভাইরাস) রোগের সংক্রমণ ঘটে, যা পরে ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ে। শুরুতেই আক্রান্ত গাছ অপসারণ ও কীটনাশক প্রয়োগ করলে রোগের বিস্তার রোধ করা সম্ভব। এ বিষয়ে কুমড়া চাষিদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, আড়িয়ল বিলে চলতি মৌসুমে প্রায় ২২৫ হেক্টর জমিতে কুমড়ার চাষ হয়েছে। পাশাপাশি আড়িয়ল বিলের ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি কুমড়াকে জিআই পণ্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে।


