স্টাফ রিপোর্টার | সিলেট/মৌলভীবাজার
সবুজে ঘেরা পাহাড়, কুয়াশার ভেতর সারি সারি চা–গাছ—এই মনোরম দৃশ্যের আড়ালেই প্রতিদিন নিরব সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন চা–বাগানের নারীরা। ভোরের আলো ফোটার আগেই কাজে নেমে পড়েন তারা। মাথায় ঝুড়ি, হাতে কাঁচি—দিনভর চা–পাতা তোলা আর সংসারের ভার বহনই যেন তাদের নিয়তি।
চা–শিল্পে শ্রমিকদের একটি বড় অংশ নারী হলেও তাদের জীবনমান এখনো চরমভাবে পিছিয়ে। দৈনিক মজুরি অপ্রতুল, স্বাস্থ্যসেবা সীমিত, শিক্ষার সুযোগ প্রায় নেই বললেই চলে। অনেক নারী শ্রমিক জানান, কাজের সময় দুর্ঘটনা ঘটলেও যথাযথ চিকিৎসা বা ক্ষতিপূরণ তারা পান না।
চা–বাগানের শ্রমিক রাধা রানী বলেন,
“সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত কাজ করি, কিন্তু যা মজুরি পাই তা দিয়ে সংসার চলে না। ছেলে-মেয়েদের পড়ালেখা করানো স্বপ্নই থেকে যায়।”
অন্যদিকে মাতৃত্বকালীন ছুটি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ ও স্বাস্থ্যসেবার মতো মৌলিক অধিকার থেকেও বঞ্চিত তারা। অনেক বাগানে এখনো বিশুদ্ধ পানির সংকট, পুষ্টিকর খাদ্যের অভাব এবং বাসস্থানের নাজুক অবস্থা চরম মানবিক সংকট তৈরি করছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, চা–শিল্প টিকিয়ে রাখতে হলে নারী শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন জরুরি। ন্যায্য মজুরি, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে এই শিল্পের টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়।
চা–বাগানের নারীরা শুধু শ্রমিক নন—তারা পরিবার ও সমাজের চালিকাশক্তি। তাদের অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়া এবং মানবিক জীবন নিশ্চিত করাই এখন সময়ের দাবি।


