কুড়িগ্রামে বিভিন্ন এলাকায় ইরি-বোরো ধান চাষাবাদ পুরোদমে শুরু হয়েছে। কৃষকরা জমি প্রস্তুত, হালচাষ ও ধানের চারা রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
কৃষকরা ট্রাক্টর দিয়ে হালচাষ করে জমি উর্বর করছেন। অন্যদিকে, মহিষ, গরু ও ঘোড়ার সাহায্যে জমি সমান করে চারা রোপনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন অনেকে। এভাবে মাঠে প্রতিটি কৃষক ও কৃষাণী ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর কুড়িগ্রামে ১ লাখ ১৭ হাজার ৩৬৫ হেক্টর জমিতে ইরি-বোরো চাষাবাদের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
জেলার বিভিন্ন এলাকায় দেখা যায়, কৃষকরা ইতিমধ্যেই জমি প্রস্তুত করা শুরু করেছেন এবং অনেক জায়গায় বিভিন্ন জাতের ইরি-বোরো ধানের চারা রোপণও করেছেন। চাকিরপাশার তালুক গ্রামের কৃষক সোলায়মান আলী, পাঠক গ্রামের জাকির হোসেন, মানিক মিয়া, রতিরাম কমলওঝা গ্রামের স্বর্ণকমল মিশ্র ও অজরুন মিশ্র গ্রামের দুলাল কার্জ্জী জানান, এ মাসের শেষের দিকে চারা রোপণ কার্যক্রম পুরোদমে শুরু হয়েছে।
স্থানীয় কৃষকরা বলেন, জমি প্রস্তুত করতে ট্রাক্টর ব্যবহার করা হচ্ছে। কিছু জায়গায় সেচের পানি দিয়ে হালচাষ করে মহিষ, গরু ও ঘোড়ার সাহায্যে জমি সমান করা হচ্ছে। সরিষা উত্তোলনের পরও ইরি-বোরো চারা রোপণ হবে।
তবে সম্প্রতি প্রচন্ড শীত ও ঘন কুয়াশার কারণে বীজতলা কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হাট-বাজারে ধানের চারা কম, যার কারণে বিভিন্ন জাতের চারা সঙ্কট ও মূল্যবৃদ্ধি হতে পারে বলে কৃষকরা আশংকা প্রকাশ করেছেন। এছাড়া খরচের হারও বেড়ে গেছে। কৃষকরা জানান, সারের দাম চড়া হলেও আমরা অনেক কষ্ট করে বোরো আবাদ শুরু করেছি। ধানের দাম ভালো হলে আমরা খুব খুশি হব।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, প্রতিবছরের ন্যায় জেলার বিভিন্ন স্থানে জমি প্রস্তুত ও ধানের চারা রোপণ শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যেই শতকরা ৬০ ভাগ বোরো আবাদ সম্পন্ন হয়েছে। আশা করা যায়, আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহের মধ্যে চারা রোপণ শেষ হবে। অধিক ফলনের জন্য সংশ্লিষ্ট কৃষি বিভাগ কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দিয়ে আসছে।


