ফুলটির নাম বোতলব্রাশ। নাম শুনলেই চোখে ভেসে ওঠে বোতল পরিষ্কারের ব্রাশের ছবি। দেখতে সত্যিই অনেকটা তেমনই। সূর্যের আলোয় ঝলমলে উপস্থিতি দৃষ্টিতে পড়লেই নজর কাড়ছে সবার। শীতের রুক্ষ সময়ের মাঝেও নীরবে সৌন্দর্য ছড়ানো এই ফুল যেন প্রকৃতির এক সংযত উচ্ছ্বাস।
রংপুর মহানগরীর সোনালী ব্যাংক প্রধান শাখা, রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকা এবং বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে গেলে চোখে পড়ে এই ফুলগাছ। পথচারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এর ব্যতিক্রমী গড়ন ও রঙের ঝলক।
বাংলা একাডেমির সহপরিচালক ও বেগম রোকেয়া স্মৃতিকেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কৃষিবিদ আবিদ করিম মুন্না বলেন, বোতলব্রাশ ফুল দেখতে অত্যন্ত সুন্দর। এর রং উজ্জ্বল লাল, রেশমের মতো কোমল অনুভূতি তৈরি করে। ফুলটির উদ্ভিদতাত্ত্বিক নাম কলিসটিমোন ভিমিনালিস। ফুলের নিচে ও চারপাশে থাকে সবুজ পাতা, যা ফুলের লাল রঙকে আরও স্পষ্ট করে তোলে। সৌখিন বৃক্ষ হিসেবে পারিবারিক বাগান, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, পার্কসহ নানা স্থানে এই গাছ লাগানো হয়।
তিনি আরও জানান, বোতলব্রাশ একটি মাঝারি আকারের ঝাড়জাতীয় গাছ। সাধারণত এর উচ্চতা ৬ থেকে ১০ মিটার পর্যন্ত হয়ে থাকে। বসন্তকালে গাছে অসংখ্য ফুল ফোটে। ফুল ও পাতায় হালকা মিষ্টি গন্ধ রয়েছে, যা অনেকের কাছে আরামদায়ক মনে হয়।
তবে এই সৌন্দর্যের আড়ালেও রয়েছে সতর্কতার বিষয়। বোতলব্রাশ ফুলের রেণু বাতাসের মাধ্যমে নাকের ভেতরে প্রবেশ করলে অ্যাজমা রোগীদের হাঁচি ও কাশির সমস্যা বাড়তে পারে। এ কারণে অনেকের কাছে গাছটি শ্বাসপ্রশ্বাসের জন্য ক্ষতিকর হিসেবেও পরিচিত।


