এক ঐতিহাসিক মাহেন্দ্রক্ষণের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ দেড় দশক পর দেশের আইনসভায় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাবর্তন করল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। আজ মঙ্গলবার বেলা পৌনে ১১টার দিকে জাতীয় সংসদ ভবনের শপথকক্ষে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী বিএনপির নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা প্রথম ধাপে শপথ গ্রহণ করেছেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন নবনির্বাচিত এই জনপ্রতিনিধিদের শপথ বাক্য পাঠ করান। গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পাওয়ার পর আজকের এই শপথ গ্রহণের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনার আইনি ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হলেন বিএনপি নেতারা।
শপথ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে আজ সকাল থেকেই সংসদ ভবন এলাকায় এক উৎসবমুখর ও আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। ২০১৪ ও ২০২৪ সালের নির্বাচন বয়কট এবং ২০১৮ সালের নির্বাচনে অংশ নিলেও মাঝপথে সংসদ থেকে পদত্যাগ করার ফলে দীর্ঘদিন বিএনপির কোনো সরব উপস্থিতি ছিল না এই সংসদ ভবনে। ফলে দীর্ঘ ১৫ বছর পর আজ যখন দলটির সংসদ সদস্যরা সারিবদ্ধভাবে শপথ নিতে কক্ষটিতে প্রবেশ করেন, তখন এক অনন্য দৃশ্যের অবতারণা হয়। শপথগ্রহণ শেষে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা একে একে শপথ বইয়ে স্বাক্ষর করেন এবং নতুন বাংলাদেশের জনআকাঙ্ক্ষা পূরণে অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনকারী দল হিসেবে রেওয়াজ অনুযায়ী প্রথম ধাপে বিএনপির সদস্যদের শপথ পড়ানো হয়। এর মাধ্যমে দলটির সংসদীয় কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক সূচনা হলো। সংসদ সদস্যদের এই শপথ গ্রহণের পরপরই বেলা সাড়ে ১১টায় সংসদ ভবনেই বিএনপির সংসদীয় দলের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ওই সভায় সর্বসম্মতিক্রমে সংসদ নেতা নির্বাচন করা হবে, যার মাধ্যমে দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পথ চূড়ান্ত হবে।
সংসদ ভবন ও এর আশপাশের এলাকায় আজ সকাল থেকেই নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। চার স্তরের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় পেরিয়ে সংসদ সদস্যরা শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দেন। আজকের এই আয়োজনের পর বিকেলেই জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত এক রাজকীয় অনুষ্ঠানে নতুন প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠিত হবে। দেশি-বিদেশি এক হাজার ২০০ অতিথির উপস্থিতিতে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন নতুন মন্ত্রিসভাকে শপথ পাঠ করাবেন। বিএনপির এই প্রত্যাবর্তনের মধ্য দিয়ে দেশে একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার নবসূচনা হতে যাচ্ছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে আজ বিকেলেই নতুন মন্ত্রিসভার দায়িত্ব বুঝে নেওয়ার কথা রয়েছে।


