পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি জনপদে গ্রীষ্মকালীন ফল চাষে ব্যাপক সাফল্য পাওয়া যাচ্ছে। অনুকূল আবহাওয়া, উন্নত চারা, আধুনিক ব্যবস্থাপনা ও সরকারি-বেসরকারি সহযোগিতার মাধ্যমে দিন দিন এই অঞ্চলে বাণিজ্যিকভাবে ফল উৎপাদন বাড়ছে। এতে পাহাড়ের কৃষকরা যেমন লাভবান হচ্ছেন, তেমনি দেশও পাচ্ছে নিরাপদ ও উচ্চমানের স্থানীয় ফল।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই) জানায়, রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়িতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আম, লিচু, পেঁপে, আনারস, কলা, ড্রাগন, মালটা ও লেবুর বাগান বেড়েছে ৩০–৪০ শতাংশ। বিশেষ করে ড্রাগন, মালটা এবং আনারস এখন পাহাড়ি কৃষকদের প্রধান আয়ের উৎসে পরিণত হয়েছে।
বান্দরবানের আলীকদমের এক তরুণ কৃষক জানান, “পাহাড়ের প্রাকৃতিক পরিবেশে ড্রাগন ও আনারস খুব ভালো হয়। অতিরিক্ত সার লাগে না, রোগবালাই কম, আর বাজারে বিক্রি করতে ভালো দাম পাওয়া যায়। প্রতি মৌসুমেই লাভ বাড়ছে।”
উৎপাদন বাড়ার কারণ
বিশেষজ্ঞরা বলছেন,
- পাহাড়ি মাটি স্বাভাবিকভাবেই উর্বর;
- অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশন সহজ;
- রাসায়নিক সারের ব্যবহার কম হয়;
- ফল গাছের বৃদ্ধি দ্রুত হয়;
- পরিবেশবান্ধব পদ্ধতিতে চাষাবাদ সম্ভব—এসব কারণে এই অঞ্চলে গ্রীষ্মকালীন ফলের উৎপাদন বাড়ছে।
কৃষি দপ্তর জানায়, পাহাড়ি অঞ্চলে ফলের বাগান সম্প্রসারণে নতুন প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। কৃষকদের দেওয়া হচ্ছে উন্নতজাতের চারা, প্রশিক্ষণ ও বাজার সংযোগ সুবিধা। বিশেষভাবে ড্রাগন, মাল্টা, লেবু ও আনারসকে রপ্তানিযোগ্য পণ্য হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ চলছে।
বাজার ও অর্থনৈতিক সুফল
পাহাড়ি ফল এখন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সরবরাহ হচ্ছে। আনারস, লিচু, ড্রাগন ও মাল্টার চাহিদা প্রতি বছরই বাড়ছে। স্থানীয় কৃষকদের দাবি, এক বিঘা বাগান থেকে মৌসুমভেদে ৮০ হাজার থেকে ২.৫ লাখ টাকা পর্যন্ত লাভ করা সম্ভব হচ্ছে। অনেকেই চাকরি ছেড়ে বাগান করে স্থায়ী জীবিকা গড়ছেন।
রাঙামাটির কৃষক সমিতির সভাপতি বলেন, “পাহাড়ের ফল এখন ব্র্যান্ড হয়ে উঠছে। গুণগত মানের কারণে মানুষ আস্থা পাচ্ছে। সঠিক বিপণন ব্যবস্থা নিশ্চিত হলে আমরা আরও বড় বাজারে যেতে পারব।”
ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, পাহাড়ি অঞ্চলে গ্রীষ্মকালীন ফলচাষ আরও সম্প্রসারিত হলে দেশের ফলের আমদানি কমবে, স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থান বাড়বে এবং পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে।
সব মিলিয়ে পার্বত্য অঞ্চলে গ্রীষ্মকালীন ফল চাষ এখন শুধু কৃষিকাজ নয়—এটি পাহাড়ের মানুষের আর্থসামাজিক পরিবর্তনের শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে।


