বাংলাদেশে ফুল চাষ এখন আর শুধু সৌখিন পর্যায়ে সীমাবদ্ধ নেই। বাণিজ্যিক ভিত্তিতে ফুল উৎপাদন করে অনেক কৃষকই স্বাবলম্বী হচ্ছেন। গোলাপ ও গাঁদার পাশাপাশি বর্তমানে চন্দ্রমল্লিকা (Chrysanthemum) চাষও ব্যবসায়িকভাবে গুরুত্ব পাচ্ছে। কম খরচে বেশি লাভ এবং সারা বছর বাজার চাহিদা থাকায় এই ফুল কৃষকদের কাছে একটি লাভজনক ফসল হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, শীত মৌসুমে চন্দ্রমল্লিকা চাষ সবচেয়ে উপযোগী হলেও উন্নত জাত ও প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে প্রায় সারা বছরই এর উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে। বিশেষ করে যশোর, ঝিনাইদহ, গাজীপুর, সাভার ও নরসিংদী অঞ্চলে বাণিজ্যিকভাবে চন্দ্রমল্লিকা চাষ দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে।
যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার ফুলচাষি রহিম মিয়া বলেন,
“এক বিঘা জমিতে চন্দ্রমল্লিকা চাষ করতে খরচ তুলনামূলক কম। তবে বাজারে দাম ভালো থাকে, বিশেষ করে বিয়ে, সামাজিক অনুষ্ঠান ও পূজা মৌসুমে। এক মৌসুমেই ভালো লাভ করা যায়।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, চন্দ্রমল্লিকা চাষের জন্য উঁচু জমি ও সুনিষ্কাশিত দোআঁশ মাটি সবচেয়ে উপযোগী। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেচ, আগাছা দমন এবং সময়মতো সার প্রয়োগ করলে ফুলের গুণগত মান ভালো হয়। আধুনিক নার্সারি ব্যবস্থাপনা ও উন্নত জাতের চারা ব্যবহার করলে উৎপাদন আরও বাড়ানো সম্ভব।
ফুল ব্যবসায়ীরা জানান, রাজধানীসহ বড় শহরগুলোতে চন্দ্রমল্লিকার চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। ফুলের দোকান, ইভেন্ট ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান ও মন্দিরগুলোতে এই ফুলের ব্যবহার বেশি হওয়ায় কৃষকরা সরাসরি পাইকারদের কাছে বিক্রি করে ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন।
কৃষি অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, পরিকল্পিতভাবে প্রশিক্ষণ, সহজ ঋণ সুবিধা এবং সংরক্ষণ ও পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন করা গেলে চন্দ্রমল্লিকা চাষ দেশের ফুল শিল্পকে আরও শক্তিশালী করবে। এর মাধ্যমে যেমন গ্রামীণ কর্মসংস্থান বাড়বে, তেমনি কৃষকের আয় বৃদ্ধিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।


