কম খরচ, কম পরিশ্রমে বেশি ফলন এবং বাজারদর ভালো থাকায় বাদাম চাষে আগ্রহ বাড়ছে তাহিরপুরে কৃষকদের। ফলে দিন দিন বেড়েই চলেছে বাদামের চাষ। উৎপাদিত বাদাম উন্নতমানের হওয়ায় দেশব্যাপী ব্যাপক চাহিদা আছে বলে দাবি কৃষকদের।
কৃষকদের দাবি, উৎপাদন খরচের চেয়ে বাজারদর কম হওয়ায় কয়েক বছর ধরে বোরো ধান চাষে লোকসান গুনছেন তারা। অপরদিকে কম খরচ আর কম পরিশ্রমে বেশি ফলন হয় বাদামে। এমনকি বাজারদরও অনেক ভালো। তাই বাদাম বিক্রি করে অনেক মুনাফার কারণে আগ্রহ বাড়ছে তাদের।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, তাহিরপুর উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের মধ্যে ৬ টিতেই জমি বেলে-দোআঁশ মাটির হওয়ায় বাদাম চাষের জন্য খুবই উপযোগী। চলতি বছর উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের গ্রাম বড় খলা দক্ষিণ কুল রসুলপুর লুভার হাওর চিকসা গুটিলা মাহরাম বিনাকুলি ইউসুফ পুর কলাগাঁ লাকমা
এলাকায় ১হাজার ৪শত ৫০হেক্টর জমিতে বাদাম চাষ করা হয়েছে। প্রতি বছরই কৃষকেরা বাদাম চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। কৃষি অফিস বাদাম চাষে কৃষকদের নানাভাবে পরামর্শসহ সহযোগিতা করে যাচ্ছে। দক্ষিণ বড়দল ইউনিয়নের রসুলপুর গ্রামের কৃষক সোনা মিয়া জানান, প্রতি কিয়ার বাদাম আবাদে যেখানে তাদের খরচ হয় ৫ হাজার টাকা থেকে ৬ হাজার টাকা সেখানে ৭ থেকে ৮ মণ ফলন হয়। আর প্রতি কিয়ার বাদাম বিক্রি হয় ২৪ থেকে ২৭ হাজার টাকা। তাছাড়া বাদাম গাছ গরুর সুষম খাদ্য ও রান্নার কাজে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। তাই কম খরচে বেশি মুনাফা পাওয়ায় তারা লাভজনক ফসল বাদাম চাষের দিকে ঝুঁকছেন।
বালিজুরি ইউনিয়নের বড়খলা গ্রামের কৃষক ইসলাম উদ্দিন বলেন, ‘আমি ৩ কিয়ার জমিতে বাদাম চাষ করেছি। প্রতি কিয়ার জমিতে ৩০০ কেজি বাদাম পাব আশা করছি ।
ধানের চেয়ে বাদামের দাম দ্বিগুণের বেশি থাকায় বাদাম চাষ করি। বাদাম চাষে খরচ কম হওয়ায় অনেক কৃষক চাষ করছেন।
বাদঘাট ইউনিয়নের বিন্নাকুলি গ্রামের দ্বীন ইসলাম বলেন, দুটি শিশু নিয়ে বাদাম চাষে ব্যস্ত সময় পার করছে।
তাহিরপুর উপ-সহকারী কৃষি অফিসার ফয়সাল আহমেদ বলেন, অন্যান্য বছরের চেয়ে এবার বাদাম চাষ বেশি হয়েছে। খরচ কম, দাম বেশি, তাই বাদাম একটি লাভজনক ফসল। কৃষকদের জমিতে গিয়ে বিভিন্ন পরামর্শ দিচ্ছি।
তাহিরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শরিফুল ইসলাম জানান, বাদাম চাষে তুলনামূলক খরচ কম হওয়ায় তাহিরপুরে দিন দিন আগ্রহী হচ্ছেন কৃষকেরা।
এ বছর উপজেলায় ১৪৫০ হেক্টর জমিতে বাদাম চাষ করা হয়েছে। বাদাম চাষের উৎপাদন বৃদ্ধি, ভালো ফলনের জন্য উন্নত বীজ, রোগবালাই নিয়ন্ত্রণ বিষয়ে কৃষি অফিস স্থানীয় কৃষকদের নানাভাবে পরামর্শসহ সহযোগিতা করছে।


