বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলায় কৃষকের আখক্ষেত থেকেই মিলছে খাঁটি আখের গুড়। রমজান মাস সামনে রেখে ভেজালমুক্ত গুড় কিনতে ক্রেতারা ছুটছেন কৃষকদের আখক্ষেতে। এতে ব্যস্ত সময় পার করছেন গুড় তৈরির সঙ্গে যুক্ত কৃষক ও কারিগররা।
উপজেলার দেহেরগতি ইউনিয়নের চর সাধুকাঠী গ্রামে এখন দিন-রাত চলছে আখ মাড়াই ও গুড় তৈরির কর্মযজ্ঞ। ওই গ্রামের গুড় কারিগর মো. শামীম হাওলাদার জানান, প্রায় ২৫ বছর ধরে তিনি নিজ হাতে সম্পূর্ণ ভেজালমুক্ত আখের গুড় তৈরি করে বাজারজাত করছেন। রমজান মাসের আগে গুড়ের চাহিদা তুলনামূলকভাবে বেশি থাকে। গত মৌসুমে তিনি প্রায় তিন লাখ টাকার গুড় বিক্রি করেছেন। বর্তমানে ভেজালমুক্ত গুড় প্রতি কেজি ২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
কৃষক আব্দুল্লাহ ওমর বলেন, গুড় তৈরির পুরো প্রক্রিয়াই সম্পন্ন হয় প্রাকৃতিক উপায়ে। ক্ষেত থেকে আখ কেটে এনে পরিষ্কার করে রস বের করা হয়। এরপর বড় মাটির চুলায় তাফালে জ্বাল দিয়ে গুড় তৈরি করা হয়। জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হয় আখের উচ্ছিষ্ট অংশ। প্রতি তাফালে বিশেষ বালতির ১০ বালতি আখের রস ব্যবহার করে প্রায় ৩৩ কেজি গুড় উৎপাদন করা হয়, যার বাজারমূল্য প্রায় সাড়ে ছয় হাজার টাকা।
আরেক কৃষক নজরুল ইসলাম বলেন, বাবা-দাদার আমল থেকে বাবুগঞ্জে আখের রস দিয়ে গুড় তৈরির ঐতিহ্য চলে আসছে, যার ইতিহাস প্রায় শত বছরের পুরোনো। তাদের তৈরি গুড়ে কোনো ধরনের কেমিক্যাল ব্যবহার করা হয় না। মাটির চুলার আগুনে তৈরি হওয়ায় এই গুড়ের স্বাদ ও গুণমান আলাদা।
ক্রেতা আব্দুল্লাহ মামুন ও আল-আমিন জানান, গত কয়েক বছর ধরে রমজান মাসের আগে তারা চর সাধুকাঠী গ্রামে এসে নিজের চোখে দেখে ভেজালমুক্ত গুড় কিনে নেন। রমজানকে সামনে রেখে বাবুগঞ্জের এই খাঁটি গুড়ের চাহিদা এখন ব্যাপক।


