শুক্রবার, জানুয়ারি ১৬, ২০২৬

সুষ্ঠ ভোট আয়োজনের জন্য রাজনৈতিক দলের সমর্থন জরুরি—সিইসি

শেয়ার করুন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্যভাবে আয়োজন করতে রাজনৈতিক দলগুলোর সহযোগিতা ও গঠনমূলক পরামর্শ চেয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন।

রোববার সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের সম্মেলন কক্ষে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে দ্বিতীয় দিনের প্রথম পর্বের সংলাপের শুরুতেই এ আহ্বান জানান তিনি।

সিইসি বলেন, “নির্বাচন কমিশন একা এত বড় দায়িত্ব পালন করতে পারে না। বিশেষত জাতীয় নেতৃবৃন্দ—যাদের ভোটারদের ওপর প্রত্যক্ষ প্রভাব রয়েছে—তাদের সহযোগিতা অপরিহার্য।”

দায়িত্ব গ্রহণের পর কমিশনকে একাধিক বড় ও চ্যালেঞ্জিং কাজ হাতে নিতে হয়েছে উল্লেখ করে তিনি জানান, কাজের চাপের কারণেই রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনায় কিছুটা বিলম্ব হয়েছে।

ভোটার তালিকা হালনাগাদকে একটি “বিরাট কর্মযজ্ঞ” উল্লেখ করে সিইসি বলেন, প্রায় ৭৭ হাজার জনবল মাঠপর্যায়ে কাজ করেছে। এ সময় ২১ লাখ মৃত ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে এবং ৪০ লাখেরও বেশি ‘লেফট আউট’ ভোটারকে নতুনভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

নতুন উদ্যোগ প্রসঙ্গে তিনি জানান,

প্রবাসী ভোটারদের জন্য ভোটদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে—যা অত্যন্ত জটিল ও নতুন একটি কাজ।

নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, পোলিং ও প্রিসাইডিং অফিসারসহ প্রায় ১০ লাখ কর্মকর্তাকে ভোট দিতে পারার সুযোগ রাখা হয়েছে।

বিদেশে কর্মরত সরকারি কর্মকর্তাদের ভোটদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

কারাবন্দিদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনায় বিলম্ব সম্পর্কে সিইসি বলেন, কমিশনের ওপর বিপুল কাজের চাপ থাকলেও নির্বাচনী ব্যবস্থা সংস্কার কমিশন তাদের পক্ষ থেকে বিভিন্ন মহলের সঙ্গে ৮০টির বেশি সংলাপ করেছে। সরকারের পক্ষ থেকেও কিছু সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নের ঘোষণা ছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।

নির্বাচনী আচরণবিধির গুরুত্ব তুলে ধরে সিইসি বলেন, আচরণবিধির খসড়া দীর্ঘদিন ওয়েবসাইটে উন্মুক্ত ছিল এবং রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত নিয়ে তা চূড়ান্ত করা হয়েছে। “আচরণবিধি সঠিকভাবে পালন করা গেলে নির্বাচন অনেকটাই সুষ্ঠু হবে,” বলেন তিনি। পাশাপাশি রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে বিধিমালাটি মনোযোগ দিয়ে পড়া ও দলীয় কর্মীদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানান সিইসি।

সংলাপের প্রথম পর্বে গণফোরাম, গণফ্রন্ট, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ, ইসলামী ঐক্যজোট, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি (বিএসপি) ও বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির সঙ্গে আলোচনা হয়।

দ্বিতীয় পর্বে দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত আরও ছয়টি দলের সঙ্গে মতবিনিময় হবে—বাংলাদেশ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ), বাংলাদেশ ন্যাপ, তৃণমূল বিএনপি, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।

এর আগে বৃহস্পতিবার প্রথম দিনে ১২টি দলের সঙ্গে দুই পর্বে আলোচনা হয়। চলতি মাসের মধ্যেই নিবন্ধিত মোট ৫৩টি দলের সঙ্গে সংলাপ শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে ইসির।

সাম্প্রতিক খবর

এই বিভাগের আরও খবর