শুক্রবার, জানুয়ারি ১৬, ২০২৬

আজ ঘোষণা হবে শেখ হাসিনার মামলার রায়

শেয়ার করুন

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত গণহত্যাসহ বিভিন্ন মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে করা মামলার রায় আজ ঘোষণা করবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল বেলা ১১টায় এ রায় ঘোষণা করবে।

এর মধ্য দিয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত অপরাধের প্রথম কোনো মামলার রায় সামনে আসছে। মামলার অপর দুই আসামি হলেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পুলিশের সাবেক আইজিপি। তাদের দুজনই বর্তমানে পলাতক। সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন আদালতে ‘রাজসাক্ষী’ হিসেবে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

রায় সরাসরি সম্প্রচারের সিদ্ধান্ত

সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের অনুমতি সাপেক্ষে রায় সরাসরি সম্প্রচার করবে বাংলাদেশ টেলিভিশন। তাদের ফিড ব্যবহার করতে পারবে দেশি ও বিদেশি গণমাধ্যম। ঢাকার বিভিন্ন স্থানে বড় পর্দায় রায় দেখানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।

একাত্তরের যুদ্ধাপরাধের জন্য গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গত ১৪ বছরে ১৫৫ জনের বিচার সম্পন্ন করেছে। তবে তখন কোনো রায়ই সরাসরি সম্প্রচার করা হয়নি।

ট্রাইব্যুনালের অন্য সদস্যরা হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

পলাতক শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

গত বছরের ৫ আগস্ট গণআন্দোলনের মুখে বাধ্য হয়ে ভারত চলে যান শেখ হাসিনা। সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালও ভারতে রয়েছেন বলে ধারণা করা হয়। তাদের পলাতক দেখিয়েই মামলার বিচারকাজ সম্পন্ন করা হয়েছে।

গত ২৩ অক্টোবর উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে মামলার বিচার শেষ হয়। পরে আজ রায় ঘোষণার দিন ঠিক করে ট্রাইব্যুনাল।

রায়ে স্বচ্ছতা দাবি মির্জা ফখরুলের

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে রায়ে পূর্ণ স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন। রোববার বিকেলে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে তিনি লিখেছেন—

“আমরা পূর্ণ ন্যায়বিচার দাবি করছি।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন, গত বছরের ঢাকায় সংঘটিত প্রাণঘাতী সহিংসতা ও দমনপীড়নের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের পাঁচটি অভিযোগ ট্রাইব্যুনাল বিবেচনায় নিয়েছে।

প্রসিকিউশনের বক্তব্য

প্রসিকিউশন জানায়, দোষী সাব্যস্ত হলে আসামিদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর মধ্যে বণ্টনের আবেদন করা হয়েছে। প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম বলেন—

“আইনের বিধান অনুযায়ীই সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার আবেদন করেছি।”

প্রসিকিউশন শেখ হাসিনা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সর্বোচ্চ শাস্তি—মৃত্যুদণ্ড—চেয়েছে। তাদের দাবি, আনা পাঁচটি অভিযোগই সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে পেরেছেন।

অন্যদিকে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আমির হোসেন আশা প্রকাশ করেছেন যে শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী খালাস পাবেন।

মামলার বিচারপ্রক্রিয়া

চলতি বছরের ১০ জুলাই অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচার শুরু হয়। ২৩ অক্টোবর যুক্তিতর্ক শেষ হয়। মাত্র তিন মাস ১৩ দিনের মধ্যে বিচার শেষ হলো।

২০১০ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ৫৬টি মামলার রায় দিয়েছে। এর মধ্যে ১০৬ জনের ফাঁসি, ২৫ জনের আমৃত্যু কারাদণ্ড এবং অন্যদের বিভিন্ন মেয়াদের সাজা হয়েছে।

নিরাপত্তার বলয়

রায়কে কেন্দ্র করে গতকাল থেকেই ট্রাইব্যুনাল এলাকা ও রাজধানীতে কঠোর নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। সেনাবাহিনী, র‌্যাব, পুলিশ, এপিবিএন ও বিজিবির বিপুলসংখ্যক সদস্য মোতায়েন রয়েছে। ঢাকার প্রবেশমুখে চেকপোস্ট বাড়ানো হয়েছে।

এক নজরে মামলার পটভূমি

গত বছরের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে এক হাজার ৪০০ জনকে হত্যা, ২৫ হাজার মানুষকে অঙ্গহানির অভিযোগসহ ‘সুপিরিয়র কমান্ড রেসপনসিবিলিটি’র আওতায় পাঁচটি অভিযোগ গঠন করা হয়। আট হাজারের বেশি নথি ও সাক্ষ্যপ্রমাণ জমা দেয় প্রসিকিউশন।

১৯৭১-এর যুদ্ধাপরাধের বিচার ব্যবস্থার আদলে গঠিত এই ট্রাইব্যুনালে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে এটি প্রথম মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার মন্তব্য

গতকাল বরিশালে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন—

“রায় যাই হোক, তা কার্যকর হবে। কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা হলে কঠোরভাবে প্রতিরোধ করা হবে।”

সাম্প্রতিক খবর

এই বিভাগের আরও খবর