ময়মনসিংহ রেলওয়ে স্টেশনের ওয়াশপিটে দাঁড়িয়ে থাকা একটি লোকাল ট্রেনের বগিতে নাশকতার উদ্দেশ্যে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। বুধবার ভোর ৪টার দিকে এ অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। তবে রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর (আরএনবি) তিন সদস্যের তাৎক্ষণিক বুদ্ধিমত্তা ও সাহসী পদক্ষেপে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষা পায় ট্রেনটি।
জানা গেছে, আগুন ছড়িয়ে পড়ার আগেই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন আরএনবির সদস্যরা। দুর্বৃত্তদের ধাওয়া দিলেও অন্ধকারের সুযোগে তারা পালিয়ে যায়।
বিষয়টি সমকালকে নিশ্চিত করেছেন রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী ময়মনসিংহ কার্যালয়ের ইনচার্জ মো. সিরাজুল ইসলাম।
তিনি জানান, আগুন লাগার বিষয়টি টের পেয়ে কর্তব্যরত নিরাপত্তাকর্মীরা দ্রুত সেখানে যান। তারা দেখেন, বগির কয়েকটি সিটে দাউদাউ করে আগুন জ্বলছে। কোনো নেভানোর সরঞ্জাম না পেয়ে নিরাপত্তাকর্মীরা নিজেদের জ্যাকেট খুলে ওয়াশপিটের পানিতে ভিজিয়ে নেন এবং সেই ভেজা জ্যাকেট দিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
সাহসী এই তিন আরএনবি সদস্য হলেন— হাবিলদার মাসুদ রানা, সিপাহি আসাদুজ্জামান এবং নায়েক ঈসমাইল। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানায়, তাদের তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত ও বীরত্বপূর্ণ ভূমিকার কারণেই বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
আগুন নেভানোর পর দেখা যায়, একটি বগির কয়েকটি সিটের অংশ পুড়ে গেছে। আরও উদ্বেগের বিষয় ছিল— একাধিক সিটে গানপাউডারজাতীয় মিশ্রণ ছড়িয়ে রাখা এবং সেখানে পেট্রলজাতীয় তরল ঢালা। ধারণা করা হচ্ছে, দ্রুত আগুন ছড়িয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরির জন্যই এ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল।
স্টেশন সুপার আব্দুল্লাহ আল হারুন সমকালকে জানান, আরএনবির দ্রুত পদক্ষেপের কারণেই দুর্বৃত্তদের নাশকতার চেষ্টা নস্যাৎ হয়। তিনি বলেন, আগুন নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হলে তা পাশের কোচ, ইঞ্জিন এবং প্ল্যাটফর্মের অন্যান্য অংশেও ছড়িয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হতো।
তিনি আরও জানান, প্ল্যাটফর্মের বাইরের অংশে ধোয়ামোছার জন্য জারিয়া লোকাল ট্রেনের কোচগুলো ওয়াশপিটে রাখা ছিল। রাতের আঁধারে দুর্বৃত্তরা অপকৌশলে গানপাউডার এবং পেট্রল ব্যবহার করে আগুন ধরিয়ে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে জড়িতদের শনাক্তে অভিযান চলছে।


